বিলেতে বাংলা সাহিত্য সাময়িকী

দিলু নাসের

বিলেতে প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়েছিলো ১৯১৬ সালে। এর ধারাবাহিকতায় নিয়মিত অনিয়মিত ভাবেএ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে অসংখ্য বাংলা কাগজ। কিন্তু বাঙালীর হাজার বছরের সমৃদ্ধ সাহিত্য কবে কখন কিভাবে এদেশে প্রকাশিত হয়েছে এর সার্বিক কোন ইতিহাস আমাদের জানা নেই। তবে ধরে নেয়া যেতে পারে এই ভিন্ন  দেশে  ভিন্ন মাটিতে প্রথম বাংলা বর্ণমালা চাষের সময় থেকেই হয়তো সাহিত্যের প্রকাশ শুরু হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের দিকপাল বিশ্বনন্দিত কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বিলেতে বসেই বাংলা ভাষায় রচনা করেছেন তার অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি। রবীন্দ্রনাথেরও আগে আরেক খ্যাত নামা কবি মাইকেল মধুসুদন দত্তও কবিতা লিখেছেন বিলেতে বসে। হয়তো তার কোন বিখ্যাত কবিতার জন্ম এখানেই হয়েছে। সে সময় নিশ্চয়ই কবিতা প্রকাশের কোন না কোন মাধ্যম ছিলো এখানে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিলেতে অনেক বাঙালি আসতে শুরু করেন। বিশেষ করে পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকে বেশ কিছু সৃজনশীল মানুষের আগমন ঘটে এদেশে। বাঙালির ভাষা আন্দোলন এবং স্বাধিকার আন্দোলনের সময় এখান থেকেই প্রকাশিত হয় বেশ কয়েকটি বাংলা কাগজ। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য ছিলো তাছাদ্দুক আহমদ সম্পাদিক দেশের ডাক। ১৯৫৪ সালের একুশে ফেব্র“য়ারিতে প্রথম প্রকাশিত এই কাগজের বিভিন্ন সংখ্যায় বেশ কিছু রাজনৈতিক কবিতা প্রকাশিত হয়েছে।
বাঙালির হিরন্ময় মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডন থেকে প্রকাশিত কাগজগুলোতে কিছু কিছু কবিতা, গল্পের সন্ধান পাওয়া যায়। তবে সেসময় পত্রিকা প্রকাশে অনেক ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হতো সম্পাদক এবং প্রকাশদের।  এছাড়াও যেমন ছিলো লেখকের অভাব তেমনি ছিলো স্থান সংকুলতা।
বিলেতের প্রথম সাহিত্যের কাগজ ‘সাগর পারে’ হিরন্ময় ভট্টাচার্যের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে। এই কাগজের পর পর তিন সংখ্যার প্রচ্ছদশিল্পী ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাশিল্পী সৈয়দ মুজতবা আলী। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত এই কাগজটি নিয়মিত ও অনিয়মিত ভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এতে লিখেছেন পশ্চিম বাংলার খ্যাতনামা লেখক এবং বিলেতের অনেক কবি সাহিত্যিকরা।
সাপ্তাহিক জনমত বিলেতের দীর্ঘস্থায়ী প্রাচীন বাংলা কাগজ। সাহিত্য প্রচার এবং প্রকাশে জনমত অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। বিভিন্ন সময়ে এতে কাজ করেছেন অনেক কবি সাহিত্যিক এবং সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব। তাদের ঐকান্তিক চেষ্টায় ভিত্তি স্থাপন হয়েছে বিলেতে নিয়মিত বাংলা সাহিত্য প্রকাশের। বিশিষ্ট কবি এবং সাহিত্যিক কাদের মাহমুদ জনমতের সাথে যুক্ত ছিলেন সত্তর দশকের শেষের দিক থেকে আশির মাঝামাঝি পর্যন্ত। আশির দশকের শুরু থেকে তার সম্পাদনায়  জনমতে শুরু হয় নিয়মিত সাহিত্য পাতা প্রকাশের।  মাহবুব রশীদ ও রুনু’র চমৎকার অলংকরণে জনমতে প্রকাশিত হয় ধারাবাহিক উপন্যাস, গল্প, কবিতা এবং ছড়া। আর এসব প্রকাশনার মাধ্যমে বাড়তে থাকে সৃষ্টিশীল  লেখকের সংখ্যা। শুরুতে আশির দশকই ছিলো বিলেতের বাংলা সাহিত্যের বীজবপনের প্রথম সোপান। সেসময় বাংলা সাহিত্যকে বুকে ধারণ করে বিলেতে আসেন- বেশ কিছু প্রতিভাবান তরুন লেখক এবং তাদের হাত ধরেই সেসময় গড়ে উঠে সাহিত্যের প্রথম আন্দোলন; গঠন করা হয় বিলেতে বাঙালি লেখকদের প্রথম সাহিত্যের সংগঠন ‘বাংলা সাহিত্য পরিষদ’।
সেসময় সাপ্তাহিক সুরমার তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ইয়াং রাইটার্স গ্র“প’ এবং এই শিরোনামে প্রকাশিত হতে থাকে একঝাক নবীন লেখকদের সৃজনশীল লেখা। এই সব লেখা লেখকদের মাধ্যমে বিলেতে বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয়তা লাভ করেছে ।
আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে বিলেতে আসেন সমকালীন বাংলা কবিতার কালোত্তীর্ণ লেখক গণমানুষের কবি দিলওয়ার। তার এই উপস্থিতিকে ঘিরে সরব হয় বিলেতের সাহিত্যাঙ্গন। সংগঠিত হন নবীন-প্রবীণ লেখকেরা এবং নতুন পুরাতনের মধ্যে সৃষ্টি হয়  সেতুবন্ধন।
‘সুরমা ইয়াং রাইটার্স গ্র“প’ এর নিয়মিত লেখা প্রকাশ এবং নবীন লেখকদের উৎসাহ প্রদানের কারণে ১৯৮৭ সালে পূর্ব লন্ডনের টয়েনবি হলে অনুষ্ঠিত হয়  লন্ডনের প্রথম বাংলা কবিতা উৎসব। জাগরণ নামে আরেকটি সাপ্তাহিকীতে ছিলো চমৎকার সাহিত্যের পাতা। প্রতি সপ্তাহে জাগরনের পাতায় যাদের সরব উপস্থিতি ছিলো তারা হলেন- শিকদার কামাল, আতাউর রহমান মিলাদ, সৈয়দ শাহিন, ফারুক আহমেদ রনি, আব্দুল মুকতার মুকিত, দিলু নাসেরসহ  আরো অনেকে।
সেসময় বাংলাদেশ থেকে আসা একঝাঁক কবিতা কর্মীর প্রাণের পত্রিকা ছিলো জাগরণ। টাইপ সেটিং এবং প্রকাশনার অনেক অসুবিধা থাকা সত্বেও জাগরনের কর্মীরা প্রতি সপ্তাহে দুটি পাতা বরাদ্ধ রাখতেন সাহিত্যের জন্য। দেশে তখন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন। দেশের সকল কবি সাহিত্যিকেরা, তখন সেই আন্দোলনের সাথে জড়িত বিলেতে এসেও এর ঢেউ লাগে। প্রবাসী কবিরা জাগরণের পাতায় তাদের প্রতিবাদী শব্দ চয়নের মাধ্যমে দূর থেকে যোগ দেন সেই আন্দোলনে। ’৮৭ মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক নতুন দিন, প্রখ্যাত সাহিত্যিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ছিলেন সেই পত্রিকার প্রধান চালক। তার তত্ত্বাবধানে শুরু থেকে নতুন দিনে সাহিত্যের পাতা ছিলো উজ্জ্বল। বিলেতের লেখকদের পাশাপাশি প্রকাশিত হতো বাংলা সাহিত্যের স্বনামধন্য লেখকদের সেরা লেখা। শামসুর রাহমান, সৈয়দ সামসুল হক, নির্মলেন্দু গুণসহ বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের সমকালীন লেখার সাথে পরিচিত হন বিলেতের পাঠকরা।
বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক গাজীউল হাসান খানের সম্পাদনায় প্রকাশিত দেশ বার্তায়ও সেসময় প্রকাশিত হতো সৃজনশীল সাহিত্যের পাতা। ডাঃ মাসুদ আহমদ লিখতেন ধারাবাহিক রচনা ‘চন্দ্রবিন্দু’। ছাপা হতো কবিতা, গল্প এবং গাজীউল হাসান খানের বিলেতের পটভূমিকায় রচিত ধারাবাহিক উপন্যাস ‘জনপদ’। এসব লেখা প্রকাশ এবং লেখকদের সরব উপস্থিতির কারণে বিলেতে বাংলা সাহিত্যাঙ্গন চাঙ্গা হয়ে উঠে। যার ফলশ্র“তিতে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম বাংলা সাহিত্য সম্মেলন এবং বই মেলা। সম্মেলনে আসেন বাংলাদেশ থেকে শামসুর রাহমান এবং পশ্চিম বাংলা সুনীল গঙ্গোপাধ্যয়। আর বাংলা সাহিত্যের দুই দিকপাল বিলেতকে আখ্যায়িত করেন বাংলা সাহিত্যের তৃতীয় চারণ ভূমি হিসেবে। পরবর্তী কালে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর সম্পাদনায় আরো দুটি সাপ্তাহিকীর জন্ম হয় নতুন দেশ এবং পূর্ব দেশ। এদুটিতে আমি নিজে নিয়মিত সাহিত্যের পাতা প্রকাশের নিয়মিত চেষ্টা করেছি। সাপ্তাহিক পত্রিকা ছাড়াও বিলেতে সেসময় প্রকাশিত হয় নিয়মিত অনিয়মিত ভাবে বেশ কয়েকটি সাহিত্যের কাগজ। কবি মাসুদ আহমদের সম্পাদনায় বার্মিংহাম থেকে প্রকাশিত হয় একটি চমৎকার কাগজ। যার উদ্যোগে ১৯৮৭সালে সামারে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হয় সাহিত্য সম্মেলন। এ সম্মেলন ছিলো বিলেতের কবি সাহিত্যিকদের মিলন মেলা। যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত আরেক দীর্ঘস্থায়ী সাহিত্য সাময়িকীর নাম প্রবাসী সমাচার। সম্পাদনায় ছিলেন সুকুমার মজুমদার। এ সাময়িকী পশ্চিম বঙ্গের লেখকদের সাথে বিলেতের লেখদের যোগসূত্র হিসেবে বিরাট ভূমিকা পালন করেছে। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৯ সালে এবং ১৯৯৩ পর্যন্ত পাক্ষিক হিসেবে প্রকাশিত হয়।
‘সাহিত্য হোক সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ১৯৮৯সালের ফেব্র“য়ারিতে প্রকাশিত হয় সংহতি সাহিত্য সংস্থার সাহিত্যের কাগজ ‘সংহতি’। কবি ফারুক আহমদ রনি এবং আবু তাহেরের যৌথ সম্পদনায় এই কাগজটি সম্পূর্ণ ছিলো সাহিত্যের। এতে বিলেতের লেখক ছাড়াও বাংলাদেশের লেখকদের লেখা ছাপা হতো। বিভিন্ন কারনে কাগজটির আয়ূস্কাল ছিলো অল্প। তবে ১৯৯৮সালে প্রকাশিত হয় ফারুক আহমদ রনির সম্পাদিত সাহিত্য এবং সংস্কৃতির একটি চমৎকার কাগজ ‘শিকড়’। শিকড়ই বিলেতের প্রথম এবং একমাত্র কাগজ। এতে স্থান পেতো বিলেত প্রবাসী লেখকদের লেখা। এছাড়াও বাংলাদেশের খ্যাতিমান লেখকদের লেখা। শিকড়ে যেমন ছিলো উন্নত লেখা তেমনি আকর্ষনীয় প্রচ্ছদের জন্য কাগজটি দ্রুত দেশে-বিদেশে জনপ্রিয়তা লাভ করে। শিকড় বিলেতের প্রথম কাগজ যা ওয়েব সাইডের মাধ্যমে বিলেতের বাংলা সাহিত্যকে বিশ্ববাঙালির কাছে পৌছে দেয়।
১৯৮৮ সাল থেকে বেশ কয়েক বছর বাংলা সাহিত্য পরিষদ প্রতিবার ২১শে ফেব্র“য়ারিতে প্রকাশ করে ‘এখানে একুশ’ নামে সাহিত্য স্মরণিকা। আহমেদ ময়েজ এবং দিলু নাসেরের সম্পাদনায় ১৯৯৯ সাল থেকে পরপর কয়েক বছর প্রতি ২১শে প্রকাশিত হয় বিলেতের কবিদের হাতের লেখা চমৎকার কবিতার সংকলন ‘একুশের সাক্ষর’। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে অনেক উন্নতমানের সাহিত্যের ছোট কাগজ। যা দিনে দিনে এখানের বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। নব্বইয়ের পর থেকে বিলেতে প্রকাশিত হচ্ছে বেশ কয়েকটি সাপ্তাহিকী। এগুলোতে মাঝে মাঝে কিছু গল্প কবিতা প্রকাশিত হয়। তবে খুব অগোছালোভাবে সাহিত্যের পাতাগুলো দেখলেই চোখে ভাসে অযতেœর ছাপ। বিভিন্ন বিশেষ দিন যেমন একুশে ফেব্র“য়ারি, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, ঈদ, নববর্ষের কাগজগুলোতে কর্মরত ডিজাইনাররা যত্রতত্র কিছু গল্প কবিতা ছেপে নিজেদেরকে বাংলা সাহিত্যের সেবক হিসেবে জাহির করেন। ১৯৯৯ থেকে ছড়াকার-কবি আহমেদ ময়েজের হাত ধরে বিলেতের সাপ্তাহিক কাগজের সাহিত্যপাতায় আসে নতুনত্বের ছোঁয়া। তিনি বিভিন্ন সময়ে কয়েকটি কাগজের সাথে জড়িত ছিলেন এবং তার মাধ্যমে সংযোজিত হয় কাগজ গুলোতে সাময়িকীর। প্রথমে সাপ্তাহিক সিলেটের ডাকে এবং পরে সুরমায় সৃজনশীল সাহিত্য পাতা প্রকাশ করেন। এরপর নতুন দিনেও আহমেদ ময়েজ প্রকাশ করেন সাধ্যানুযায়ী উন্নত সাহিত্য পাতা। অন্যান্য কাগজগুলোর মধ্যে সাপ্তাহিক পত্রিকায় দেশের এবং বিলেতের লেখকদের লেখা যতœসহকারে ছাপা হয়। তবে নিয়মিত ভাবে সাহিত্য প্রকাশের কোন উদ্যোগ নেই। গত কয়েক বছর ধরে এখানে নিয়মিতভাবে যে কাগজটি সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশিত হয় সেটি হচ্ছে সাপ্তাহিক সুরমা। নিদ্বিধায় বাংলাদেশের অনেক সাহিত্য সাময়িকীর চেয়েও অনেক উন্নত, পরিচ্ছন্ন এবং সুখপাঠ্য। সুরমার এই সুবিনস্ত পাতা দেশে বিদেশে প্রশংসিত।
সুরমার সাময়িকীর মতো অন্যান্য কাগজগুলোও যদি নিয়মিত মানসম্পন্ন সাহিত্যপাতা প্রকাশের উদ্যোগ নেন তাহলে বিলেতের বাংলা সাহিত্যের চাষ আরো বেগবান হবে।

সাহিত্যের ছোট কাগজ
সাপ্তাহিক পত্র-পত্রিকা ছাড়াও গত কয়েকবছর ধরে বিলেত থেকে নিয়মিত অনিয়মিত ভাবে প্রকাশিত হচ্ছে বেশ কয়েকটি বর্ণাঢ্য সাহিত্যের কাগজ। যারমধ্যে  শব্দপাঠ,  ভূমিজ, ধীশ্বর, আদি, কাকতাড়ুয়া এবং কবিতা অন্যতম। এসব কাগজের মধ্যে বিলেতের লেখকের চেয়ে বাংলাদেশ এবং পশ্চিম বঙ্গের লেখকের লেখার সংখ্যা বেশী। সাম্প্রতিককালে বিলেতে বাঙালি লেখা এবং লেখকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও এদেশ থেকে প্রকাশিত ঝকঝকে সাহিত্যের কাগজগুলোতে অনেক লেখকের অনুপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। ‘শব্দপাঠ’ এবং ‘কবিতা’ কাগজ এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। বাকীগুলো প্রথম সংখ্যাতেই সীমাবদ্ধ। আশাকরি আগামীতে এসব কাগজগুলো নিয়মিত প্রকাশিত হবে এবং বাংলা সাহিত্যের তৃতীয় চারণ ভূমি বলে খ্যাত বিলেতের বাংলা সাহিত্যকে প্রতিনিধিত্ব করবে।
আরো দুটি সাহিত্য উল্লেখযোগ্য সাময়িকী বিলেত থেকে প্রকাশিত হচ্ছে। একটি হচ্ছে তৃতীয় ধারা অন্যটি হচ্ছে কৃষ্টি। এপর্যন্ত পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে তৃতীয়ধারা। সাহিত্য নির্ভর এই কাগজটি সম্পাদনায় আছেন তরুণ লেখক আকাশ ইসহাক। তৃতীয়ধারার প্রথম সংখ্যায় সম্পাদনায় যুক্ত ছিলেন সাঈম চৌধুরীও। তৃতীয় ধারার প্রত্যেকটি সংখ্যা দেশ বিদেশে সাহিত্যবোদ্ধাদের দৃষ্টি বিশেষ ভাবে কেড়ে নিয়েছে। এতে বিলেতের লেখকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে সদ্য আগত শক্তিমান লেখকের লেখা প্রকাশিত হচ্ছে। সেসব লেখা এবং প্রকাশনা দিনদিন বিলেতের বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করছে।

Advertisements
Posted in Uncategorized | মন্তব্য দিন

তৃতীয়বাংলার লেখক পরিচিতি

Tritio Banglar Lekok Porichiti

Posted in Uncategorized | মন্তব্য দিন

Shanghati Job Advertisement

Job Advertisement of Poetry in East End Bengali Migrant’s Life 1960-1980: Poetry the Inseparable Part of Bengali Life


If you are interested please download the application below and send by 20th July 2015:

Job Application Form – Shanghati JD&PS – Project Co-ordinator – Shanghati Shanghati and project info

Posted in Uncategorized | মন্তব্য দিন

PRESS RELEASE

25th Anniversary and Literary Seminar


The Shanghai Literary Society is organizing a special 25th anniversary and literary seminar on 1st August 2015 at Curtain Theatre, 28 Commercial Street, London E1 6LS, United Kingdom. Since the organization’s inception in 1989 the society has been organizing regular arts and cultural events, including an annual poetry festival, which attracts more than 1000 participants and poets from around the world, including special guests invited from mainland UK, Bangladesh, West Bengal, USA, Canada and Europe.

Stephen WattsPassingClouds7Poet Stephen Watts

Anisul_Hoque_-_Dhaka_2015-05-30_1676
Poet, Novelist and Journalist Anisul Hoque

It has been confirmed by our distinguished guests and delegates of their attendance including renowned British poet Stephen Watts, poet writer, novelist and journalist Anisul Hoque (Associate Editor, Day Prothom Alo), poet and Journalist Mustafiz Shafi (Executive Editor, Daily Samakal), poet, writer and academician Shoaib Gibran, writer, lyricist & composer  Sheik Rana from Bangladesh, poet Zia Uddin USA and poet Abdul Hasib from Canada, it is also confirmed that popular singer and musician Badsha Bulbul (Bangladesh) and musician and santoor player Kunal Saha from Kolkata also featuring the event.

shafi-vaiPoet and Journalist Mustafiz Shafi

It just seems that Shanghati keeps growing and glowing with a remarkable vitality that demonstrates the creativity, respect, and understanding that the Shanghati has for the Bengali literature, arts and cultural field. It has broadly recognized that the Shanghati board and every member for their diligence, commitment, vision and support they have provided to Bengali literature throughout the world.

63988_589482961079400_1309572613_nPoet & Writer Soaib Gibran

The 25th year anniversary and literary festival will be an even more special in the light of the recent expansion of its activities in running an externally funded project.  The event will have colorful procession, seminar, poetry recitation, music and drama performances. It will be attended by the diverse communities of the UK and other parts of globe.

10898157_1004238939590620_4449997284078123894_n
Poet and Writer Abdul Hasib
14646_816320641750849_6497684844598527406_n
Poet Zia Uddin

We have been promised to expand our creativity and our rich culture and literature in the multicultural society around the globe, and now the time, we are faced with the challenges of realizing that promise, work that requires us all to continue speaking out and acting on our commitments to make substantive and lasting changes.

photoWriter,Lyricist & Musician Sheik Rana
badsha-bulbul.j1
Singer and Musician Badshah Bulbul1386157110604dw1Musician and Santoor Player Kunal Saha

The strength and success of the work that Shangahti and our members has been doing for the last 25 years gives us the ability and courage to continue doing that work into the future, and look forward to work together.


সংহতি রজত জয়ন্তী ২০১৫


সংহতি আজ ২৫ বছরের যুবা। আজ থেকে ২৫ বছর আগে তৃতীয়বাংলায় কিছু তরুণ কবি ও সাহিত্যকর্মিদের প্রচেষ্টায় সংহতি সাহিত্য পরিষদের জন্ম হয়। জন্মলগ্ন থেকে সংহতি তার আদর্শ এবং কর্ম তৎপরতার মাধ্যমে একটি নিরেট সাহিত্য সংগঠনে পরিণত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের সব ক’টি ক্ষেত্রেই সংহতি সমান অবদান রেখে আসছে। সংহতি শুরুতে যুক্তরাজ্য থেকে সর্বপ্রথম বাংলা মাসিক সাহিত্যের কাগজ প্রকাশনার মধ্যদিয়ে যাত্রা শুরু করে। তারপর ধাপে ধাপে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংযোজন করছে ভিন্ন মাত্রা। ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাহিরে সর্বপ্রথম বাংলা কবিতা উৎসব ও বহির্বিশ্বের বাংলাভাষার কবি সাহিত্যিকদের মূল্যায়নের লক্ষ্যে সাহিত্য পুরষ্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সংহতি কবিতা উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে অংশগ্রহণ করছেন কবি ও সাহিত্যিকরা। সংহতির ২৫ বছর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পহেলা আগস্ট ২০১৫, পূর্বলন্ডনের কার্টেন থিয়েটারে উদযাপিত হতে যাচ্ছে রজত জয়ন্তী ও সাহিত্য সম্মেলন। এতে বাংলাদেশ থেকে উপস্থিত থাকার চুড়ান্ত  সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন বিলেতের মুল্ধারার কবি স্টীফেন ওয়াটস্, এ সময়ের জনপ্রিয় কবি, লেখক ও কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক, কবি ও সাংবাদিক মুস্তাফিজ শফি, কবি ও সাহিত্যিক ড. শোয়াইব জিবরান, লেখক, গীতিকার ও সুরকার শেখ রানা, বিশিষ্ঠ সংগীত শিল্পী বাদশা বুলবুল, ক্যানাডা থেকে কবি আব্দুল হাসিব, জিয়া উদ্দীন (আমেরিকা) ও কলকাতা থেকে আসছেন সানতুর শিল্পী কুনাল সাহা্। তাছাড়ও  যুক্তরাজ্য ও  ইউরোপের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক কবি সাহিত্যিকরা অংশগ্রহণ করবেন। বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করুন shanghati@yahoo.co.uk


POETRY THE INSEPERABLE PART OF BENGALI LIFE (1960-80)

Exploring poetry writing and community evolution in East London during 1960-80
A unique project by Shanghati Literary Society

 The project aims to help reveal the rich heritage of poetry in East London during 1960-80, primarily by Bengalis, through oral history and collecting community poems. This period represents a decade before and a decade after the creation of Bangladesh in 1971, which is partly designed to help understand the impacts of the tumultuous birth of a new country on community poetry.  The project will include poetry by non-Bengalis of the area, which will help bring out the totality of the world of poetry writing in East London, the changing local context and the place of Bengali poetry writing. Now a group of volunteer researchers from East London are setting out to uncover that story, backed by a £50,000 grant from the Heritage Lottery Fund (HLF).

Poetry writing and reading have been a very strong element of Bengali life for a long time. Not only professional or well-known poets participated in this art but many ordinary people in their spare time or during moments of inspiration wrote down verses on blank sheets of paper. Migrants who came to the UK from Bangladesh or Bengal part of East Pakistan before Bangladesh was created in 1971 resorted to writing and reading poetry in order to seek comfort, express and share thoughts and experiences, engage in cultural activities, explore romantic feelings, etc.

Many ordinary people sent their poems to Bengali newspapers and magazines to be published and some even spend money from their pockets to get their own books of short poetry printed, which they tried to sell through small shops, during community events or just give them out free of charge. There are literally hundreds of poets who produced works of different qualities and some of their works are probably in family archives somewhere in their homes and others may be found by going through old Bengali newspapers and community magazines and newsletters.

There is also a strong tradition of poetry within the mainstream communities of East London during the same period. For example, the Basement Writers Group spearheaded poetry activities in the area with regular performances and many publications.

From the 1960s onwards East London experienced major changes, caused by post war immigration, experiences of and fight against racism, decline of local industries, closure of docks and resistance by local people, rising unemployment, etc. The inclusion of poetry by non-Bengalis in the project will help develop an understanding of the shared and different worlds lived and experienced by the diverse communities of East London.

The project will recruit twelve volunteers and provide them with training on oral history, curatorial presentations and archival research. The volunteers will record oral history of forty community poets, collect 100 Bengali and English poems, and help produce a printed book and an illustrated exhibition, which will be showcased at the project end celebration at the Bancroft Local History Library and Archives.

Notes to Editors

 About the Heritage Lottery Fund

From the archaeology under our feet to the historic parks and buildings we love, from precious memories and collections to rare wildlife, we use National Lottery players’ money to help people across the UK explore, enjoy and protect the heritage they care about. www.hlf.org.uk.

About the Shanghati Literary Society

Shanghati Literary Society organises regular arts and cultural events, including an annual poetry festival in East London, which attracts more that 1,000 participants and poets from around the world, including special guests invited from Bangladesh and West Bengal in India.  Since 2012 Shanghati has been delivering a number of unique externally funded community cohesion projects called Vision for Tolerance, Combating Prejudice and Community Literature Festival, the latter involve training on poetry, drawing and short story writing and running a competition.

Posted in সাম্প্রতিক, Home (English), Press release | মন্তব্য দিন

Poetic Narrations

11391283_10153120727513423_7380926367298971043_nTraining course designed to help you to learn how to write poetry or improve you poetry writing skills.

Wednesday 3, 10, 17 & 24 June (Lab 1a), 6.30-8.30pm at Idea Store Whitechapel

  • Would you like to learn how to write poetry?
  • Would you like to improve your poetry writing skills?

If the answer to any of the above two questions are yes then please book a place on the course

All welcome to participate in the competition and training. For further details or to book a place on the training courses please email shanghati@yahoo.co.uk or phone 07914119282. Emdad Rahman (MBE) is a writer, blogger and football poet. He is also a community volunteer, passionate about grassroots efforts which help bring positive changes in communities. He volunteers for local publications, is a writer for the Liverpool FC Fanzine Red and The Pavement Magazine for homeless people. He is also a published football poet with over 500 poems. This is a Shanghati Literary Society initiative Layout 1


Shanghati Literary Society and  its upcoming events


The Shanghai Literary Society is organizing a special 25th anniversary and literary festival on 1st August 2015.  Since the organisation’s inception in 1989 the society has been organising regular arts and cultural events, including an annual poetry festival, which attracts more that 1000 participants and poets from around the world, including special guests invited from Bangladesh, West Bengal, USA, Canada and Europe.
It just seems that Shanghati keeps growing and glowing with a remarkable vitality that demonstrates the creativity, respect, and understanding that the Shanghati has for the Bengali literature, arts and cultural field. It has broadly recognized that the Shanghati board and every member for their diligence, commitment, vision and support they have provided to Bengali literature throughout the world.
 Since 2012 Shanghati has been delivering a number of unique externally funded community cohesion projects called Vision for Tolerance, Combating Prejudice and Community Literature Festival including training, drawing, and short story writing and running a competition.
Recently, the organisation has been successful in securing funds from the Heritage Lottery Funds to deliver an amazing project called Poetry the Inseparable Parts of Bengali Life. The 25th year anniversary and literary festival will be an even more special in the light of the recent expansion of its activities in running an externally funded project.  The event will have colourful procession, seminar, poetry recitation, music and drama performances. It will be attended by the diverse communities of the UK and other parts of globe.We have been promised to expand our creativity and our rich culture and literature in the multicultural society around the globe, and now the time, we are faced with the challenges of realizing that promise, work that requires us all to continue speaking out and acting on our commitments to make substantive and lasting changes.The strength and success of the work that Shangahti and our members has been doing for the last 25 years gives us the ability and courage to continue doing that work into the future, and we look forward to work together

সংহতি সাহিত্য পরিষদের সাহিত্য আড্ডা
IMG-20150615-WA0143

লন্ডন, ১৬ জুন :
সংহতি সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে গত ১৫ই জুন সোমবার সংগঠনের নিয়মিত সাহিত্য আড্ডার অংশ হিসেবে ব্যতিক্রমর্ধী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় । 

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা এবং গান নিয়ে সাজানো অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে কবিতা আবৃতি করেন বিশিষ্ট আবৃতিশিল্পী মুনিরা পারভীন এবং গান পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী মিতা তাহের এবং নাজমুন নাহের। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সাহিত্য সংষ্কৃতি বিষয়ক বিভিন্ন আলোচনার পাশপাশি রবীন্দ্র নজরুল নিয়ে আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে বিলেতের কবি ও ছড়াকার পাঠ করেন তাদের স্বরচিত কবিতা ও ছড়া । আলোচনা এবং কবিতাপাঠে অংশ নেন কবি হামিদ মহাম্মদ, গোলাম কবির, আহমেদ ময়েজ, নজরুল ইসলাম ,মজিবুল হক মনি ,ফারুক আহমেদ ,দিলু নাসের ,আবু তাহের ,আহমেদ হোসেন বাবলু ,সৈয়দা নাজমিন হক, আবু মকসুদ ,কাজল রশিদ, রেজুয়ান মারুফ, এম মোসাইদ খান ,সাইফ উদ্দিন বাবর, আরাফাত তানিম ,জামিল সুলতান ,শামসুল জাকী স্বপন, এ কে এম আব্দুল্লাহ ,সাগর রহমান, উদয় শংকর দূর্জয়, মোহাম্মদ মুহিদ প্রমূখ ।

সংহতির সাহিত্য সম্পাদক কবি আনোয়ারুল ইসলাম অভি’র পরিচালনায়, অনুষ্ঠানের উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের পক্ষে কবি ইকবাল হোসেন বুলবুল ও কবি শামসুল হক এহিয়া ।

IMG-20150615-WA0140 IMG-20150615-WA0141 IMG-20150615-WA0139


Posted in Uncategorized | মন্তব্য দিন

কবিতা উৎসব ২০১৪

  


বাংলা কবিতা উৎসব ২০১৪ উপলক্ষে বিলেতের কবিসাহিত্যিকদের সাথে সংহতি’র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

 সংহতি সাহিত্য পরিষদ আয়োজিত বাংলা কবিতা উৎসব ২০১৪ উপলক্ষে বিলেতের কবি ,সাহিত্যিক, সাংবাদিক ,সংগঠক,সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের মন্টিফিউরি সেন্টারে সংগঠনের সভাপতি কবি ইকবাল হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্টানে বিলেতের উল্লেখযোগ্য কবি,সাহিত্যিক, সংস্কৃতকর্মী ,সংগঠক উপস্থিত থেকে কবিতা উৎসবকে সফল করতে তাদের নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করেন। সংহতির সাধারণ সম্পাদক কবি সামসুল হক এহিয়ার স্বাগত বক্তব্যে  অনুষ্টিতব্য কবিতা উৎসবের সম্ভাব্য কর্মকান্ডের বিবরণ দিয়ে উপস্থিত সবাইকে তাদের মুল্যবান মতামত প্রদানের আহবান জানান। সংহতির দীর্ঘ ২৬ বছরের নিরবিচ্ছিন্ন কর্মকান্ড নিয়ে আলোকপাত করেন সংগঠনের উপদেষ্টা নাট্যকার আবু তাহের ও  সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল, সভাপতি ইকবাল হোসেন বুলবুল এবং ট্রেজারার  কবি তুহীন চৌধুরী। মতবিনিময় সভায়- কবিতা উৎসবকে প্রাণবন্ত করতে  উপস্থিত সকলে তাদের নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় গুলো হচ্ছে- স্বরচিত কবিতা পাঠ অংশে অনুষ্টানের  সার্বিক মান ও সময়কে বিবেচনায় রাখা, বিলেতের কবিদের কবিতা আবৃত্তি প্রসঙ্গ,বিলেতের বাংলা সাহিত্য ও সাহিত্য নির্ভর মৌলিক  সার্বিক কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা, বই মেলা, সংগঠকদের মৌলিক পরিবেশনা,আমন্ত্রিত অতিথিদের আলোচনা ও পরিবেশনা প্রসঙ্গ এবং সংহতির স্মারক প্রকাশনা ইত্যাদি। আলোচনায় অংশগ্রহন করেন- লেখক সাংবাদিক ইসহাক কাজল,কবি সাংবাদিক আহমদ ময়েজ,কবি মজিবুল হক মনি,সাংবাদিক আব্দুল কাদির মুরাদ,কবি আবু মকসুদ, কবি সাইফুদ্দিন আহমদ বাবর,কবি নজরুল ইসলাম,কবি গোলাম কিবরিয়া,কবি সৈয়দ রুম্মান,কবি এম মোশাহিদ খান, কবি সাগর রহমান,কবি উদয় শংকর দুর্জয়,কবি আরাফাত তানিম, গীতিকার আহমেদ হোসেন বাবলু,কবি জামিল সুলতান,উপস্থাপক সামসুল জাকি স্বপন, কবি এ কে এম আব্দুল্লাহ, কবি শাহ আলম,সাংস্কৃতিক কর্মী সৈয়দা নাজমিন,সুফিয়া জামিন নুরুজ, জাকির হোসেন, কবি মোহাম্মদ মুহীত,লেখক আশিষ মিত্রপ্রমুখ।

প্রানবন্ত অনুষ্টানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাহিত্য সম্পাদক কবি আনোয়ারুল ইসলাম অভি।  উল্লেখ্য সংহতি সাহিত্য পরিষদ  ২০০৮ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে বিলেতে কবিতা উৎসব করে আসছে। আগামী ১৯ অক্টোবর রবিবার দিনব্যাপী  বাংলা কবিতা উৎসব ২০১৪ পূর্ব লন্ডনের ব্রার্ডি আর্টস সেন্টারে নান্দনিক ও বিশাল কলোবরে অনুষ্টিত হবে। দুই পর্বের অনুষ্টানের শুভ উদ্বোধন এবং উৎসব এর প্রথম পর্ব শুরু হবে আলতাব আলী পার্ক থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালীর মাধ্যমে। অনুষ্টানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে থাকবেন- বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হেলাল হাফিজ এবং বিশিষ্ট আবৃত্তিকার শিমুল মুস্তাফা। এছাড়ারও আশির দশকের কবি ফজলুল হক ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের বাংলাভাষি কবি সাহিত্যিক ও কবিতাপ্রেমীরা উপস্থিত থাকবেন বলে সংহতির পক্ষ থেকে জোর আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। বরাবরের মতো সংহতি এবারও সংহতি কবি পদক,সাহিত্য পদক, বিশেষ সম্মাননা পদক প্রদান করবে।অনুষ্টান সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানতে সংগঠনের সাহিত্য সম্পাদক কবি আনোয়ারুল ইসলাম অভির সাথে ০৭৯০৪০৭১০৯১ নাম্বারে ও shanghati@yahoo.co.uk যোগাযোগ করতে  সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

__________________________________________________________________

ধ্যানজ্ঞ প্রার্থনাসভা

মিলটন রহমান

কবিতার মত মৌল শিল্প নিয়ে কাজ করবার জন্য একটি নন্দনতাত্বিক ভূমির দরকার হয়। যেখানে প্রাকৃতিক সুরম্য সাঁকো তৈরী থাকবে । থাকবে ফুল ও পাখির পরাগায়ন রহস্যের মত মোহবিস্তারি ধ্যান। সেখানে গ্রীসের পৌরাণিক নারী থাকাও বাঞ্চনীয়। পোক্ত আসন থাকতে পারে ফ্রয়েডীয় রতিবিশ্ব কিংবা এলিয়টীয় রোমান্টিকতার। এসবের মধ্যে ঠিক ফাঁক গলে বসে থাকা শুন্যতা, হাঁহাঁকার কিংবা নি:সঙ্গতাও থাকা চাই। কেননা ধ্যানের অধীক আলো-অন্ধকার আঁকড়ে না থাকলে কবিতা পাতাবাহার হয় না। বিলেতে বাংলা কবিতা সাহিত্যের এমন একটি ভ’মি আছে কি নেই সেই প্রশ্ন অবান্তর। এইটুকু বলা যায় যারা এখানে কবিতাকর্ম করেন প্রত্যেকের একটি স্বর্ণরেখা আছে। ওই রেখাই কবিকে পথ দেখায়। মাটি ছেড়ে যারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসে বাংলাসাহিত্য চর্চা করছেন তারা জানেন বিলেতে একটি নন্দনভূমি আছে। বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন একটি ভ’মিতে থাকলেও তারা মূলধারার সাহিত্যকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। ইদানিংকালে অনেকেই দেশে-বিলেতে-দেশে বসেই সাহিত্যকর্ম করছেন। সম্ভবত মূলের সাথে অবিচ্ছেধ্য সম্পর্কের কারণেই এখানে দেশের মতই ব্যস্ত সময় কাটে কবি-সাহিত্যিকদের। প্রায় বছরজুড়ে কবিতা কিংবা সাহিত্য নির্ভর আয়োজনে আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। আমি বিলেতে থিতু হয়েছি ২০০৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে। যেদিন ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসিতে ঝুলানো হলো। সময়টা বেশ কদর্যই ছিলো। তবে আমার পরবর্তী সময় তেমন ঘোলাটে হয়নি। সম্ভবত ২০০৭ কি ২০০৮ সালেই প্রথম আমি সংহতি সাহিত্য পরিষদের কবিতা উৎসবে যোগ দেয়ার সুযোগ পাই। ক্যুইনমেরি কলেজে সেবার কবিতা পাঠ করেছিলাম। সংহতির যাত্রার মাঝামাঝি সময়ে আমি সামান্য সহযাত্রী হতে পেরে প্রীত হয়েছিলাম। কারণ সেদিন সংহতির আয়োজন দেখে আমি ভুলে গিয়েছিলাম দেশে ফেলে আসা সব আয়োজনের কথা। কবিতা নিয়ে দেশের বাইরে পূর্ণঙ্গ অনুষ্ঠান আয়োজন, মাটিছাড়া আমাকে নতুন প্রনোদনায় উজ্জিবিত করেছিলো। কবি ফারুক আহমদ রনি, নাট্যকার আবু তাহের, কবি ইকবাল হোসেন বুলবুলসহ অনেকের সাথে আমার পরিচয় সংহতি সাহিত্য পরিষদের সুবাধে। দেখেছি একদল উদ্দমী কবিতাকর্মী নিরন্তর কাজ করেছেন প্রতিবছর কবিতা উৎসব আয়োজনে। কবিতা উৎসবে যোগ দিতে একে একে এসেছেন কবি আসাদ চৌধুরী, কবি বেলাল আহমেদ, কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী, কবি মহাদেব সাহা। এবার আসছেন কবি নির্মলেন্দু গুন, কবি মাসুদ খান, কবি মারুফ রায়হান, তরুন কবি ওবায়েদ আকাশ। আরো কবিরা এ উৎসবে যোগ দেবেন বলে শুনতে পেয়েছি।সংহতি প্রতি বছর কবিতা উৎসবের আয়োজন করছে আর এ উৎসবের উত্তরণ ঘটছে। এ উৎসব এখন মর্যাদার একটি বিস্তৃর্ণ মাঠের অধিকারী। যেখানে শোভা পাচ্ছে সব প্রিয় কবিদের নাম। যাদের সংহতি সাহিত্য পদক দিয়ে সম্মাণিত করেছে। সংহতি কবিতা উৎসব এখন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি সুবর্ণ পাতার নাম। বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলন থেকে শুরু করে আজ অবধি কোন সাহিত্য সম্মেলন বা আন্দোলনের নাম নিতে গেলে সংহতি অবধারিতভাবে পর্যায়ক্রমে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। দেশের বাইরে সম্ভবত এটিই এককভাবে কবিতা নিয়ে আয়োজিত বড় উৎসব। পত্র-পত্রিকায় প্রায় বছরজুড়ে আলোচনা থেকে বুঝা যায় এ উৎসবের বিস্তৃতি বিশ্বব্যাপি বিস্তৃত হয়েছে। কানাডা থেকে কবি মাসুদ খান আসছেন। এছাড়া অন্যান্য দেশ থেকেও আমাদের কবিরা আসবেন শুনেছি। অন্য দেশে অবস্থানরত কবিদের উৎসবমুখী করা সম্ভব হয়েছে এর গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাপ্তবয়স্কতার কারণে। তাই বলতে এবং ভাবতে ভালো লাগে সংহতি আয়োজিত কবিতা উৎসব একদিন আরো বড় হবে। বাংলা কবিতার বিশ্ব প্রতিনিধত্ব করবে।সংগঠন-আড্ডা-কবিতা। এভাবে একটি যুথবদ্ধ খামার থেকে সৃষ্টি ও এর রসদ তৈরী হয়। বিলেতে সংহতি এ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে গেছে এবং যাচ্ছে। ফলে এখানে তৈরী হয়েছে কিছু ধ্যানি মানুষ। যারা কেবল বাণী প্রার্থণা করেন। তৈরী করেন এক একটি সুরম্য উদ্যান। এটা এক ধরণের উম্মাদনা। যা না হলে বাক্য ও চিন্তারা অনিশ্চয়তার পাকে পড়ে। এবার উৎসবে এমনি তিন ধ্যানি আসছেন। ‘আমার কন্ঠস্বর‘ পাঠ করলে বুঝতে অসুবিধা হয় না কবি নির্মলেন্দু গুন কেমন ধ্যানি ছিলেন এবং কিভাবে কবি হয়ে উঠেছেন। গুন দা‘কে মনে হলে কবি আবুল হাসানের কথাও মনে পড়ে। আত্মার দুই বন্ধু ঢাকার রাস্তায় কিভাবে প্রেম ও আগ্নুৎপাতের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। কবি আবুল হাসান ঝিনুক কে নিরবে সয়ে মুক্তা ফলানোর কথা বলে চলে গেলেও গুন দা মুক্তা ফলাচ্ছেন এখনো। একইভাবে সংহতিও মুক্তার অধীকারী এখন। কবি মারুফ রায়হান এবং আমি হাতে ও গলায় ঝিনুকের মালা পড়ে কক্সবাজার সৈকতে জল ও জোৎ¯œার সাথে মিশে গিয়েছিলাম। তখন দেখেছিলাম কবির উন্মাদনা। যা না হলে কবি হয়ে ওঠা অসম্ভব। তরুণ কবি ওবায়েদ আকাশ ধ্যানের চূঁড়ায় থাকেন বলে ‘শালুক‘ এর মত একটি ভারী ছোট কাগজ সম্পাদনা করেন। এবার কবিতা উৎসবে এঁদের উপস্থিতি কবিতা উৎসবকে অনন্যতায় স্থাপতি করবে বলে মনে করি।


 লন্ডনে বাংলা কবিতা উৎসব : শীতের আকাশে তবু কবিতার তুলো ওড়ে


 ওবায়েদ আকাশ

ইস্ট লন্ডনের শহীদ আলতাফ আলী পার্কে সকাল ৯টা থেকে প্রতিদিনের পরিচিত দৃশ্যগুলো যেন নিজেকে বদলে ফেলেছে। স্থানীয় গ্রীষ্মের শেষদিকে কিছুটা শীতের তীব্রতায় প্রাত্যহিক দৃশ্যগুলো যেন চুপটি মেরে আছে আশেপাশের অন্য কোথাও। এক নতুন দৃশ্যের উচ্ছ্বাসে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে ছুটির দিনের উৎসুক লন্ডনবাসী যে যার মতো দাঁড়িয়ে পড়েছে আলতাফ আলী পার্কের নতুন দৃশ্যশোভার চারিদিকে। এ দৃশ্য আজ কবিতাপ্রেমীদের কোলাহলে। একে একে কবিতার নামে নানা সস্নোগান অঙ্কিত ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ছুটে আসছে কবিতাপাগল অগণিত মুখ। শিশু থেকে বৃদ্ধ কে না ভালোবাসে কবিতা! প্রত্যেকের দৃষ্টি ফুঁড়ে যেন বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন কবিতার সব ধারালো পঙ্ক্তি। সব কিছু ছাপিয়ে এখান থেকেই কবিতার শোভাযাত্রা শুরু করবে ‘বাংলা কবিতা উৎসব ২০১২’। এই র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করতে প্রাত্যহিক সীমাহীন ব্যস্ততাকে উপেক্ষা করে ‘সংহতি সাহিত্য পরিষদ’-এর সদস্যদের আগ্রহ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছিল_ দীর্ঘ একবছর বিরতির পর আজ আবার কবিতা উৎসব। দৃষ্টি আকর্ষণীয় তাদের নানা আয়োজন। অবাক বিস্ময়ে তাকানোর মতো আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রতি ‘সংহতি’র আচরণ ও অতিথিদের অংশগ্রহণ। এর সঙ্গে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় ও বাংলা সংবাদপত্র-টেলিভিশনের অগণিত মিডিয়াকর্মী ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যবৃন্দ। কবিতা পড়ার যে পাঠক নেই, কবিতা শোনার যে শ্রোতা নেই_ এই দৃশ্য যেন সেই ঘুণে ধরা ধারণাকে উপহাস করে চলেছে।
সকাল ১০টায় শুরু হলো দিনব্যাপী কবিতা উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজন সকালবেলার র‌্যালি। গন্তব্য উৎসবস্থল ব্রাডি আর্ট সেন্টার। র‌্যালিতে অংশ নিয়েছেন সংহতি সাহিত্য পরিষদের অগণিত সদস্যসহ তাদের ও আমাদের সংস্কৃতিকর্মীদের অভিভাবক কবি ও বিশিষ্ট লেখক-কলামিস্ট আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। বর্তমান বৃটেনের অন্যতম শক্তিমান ও জনপ্রিয় কবি স্টিফেন ওয়াটস, টাওয়ার হ্যামলেটের মেয়র, বাংলাদেশ দূতাবাসের হাইকমিশনার ছাড়াও আরো স্থানীয় গণ্যমান্য নারী-পুরুষ। আর এসময়ের বাংলা ভাষার শক্তিমান ও জনপ্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুণসহ বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে যাওয়া আমরা কয়েকজন_ কবি মারুফ রায়হান, আমি ও কানাডা প্রবাসী কবি মাসুদ খানের অংশগ্রহণে এ র‌্যালি যেন আরো বেশি বেগবান হয়ে ছুটে চলে গন্তব্যের দিকে। র‌্যালিতে অংশ নিয়েছিলেন আমন্ত্রিত অতিথি জার্মান প্রবাসী কবি নাজমুন নেসা পিয়ারী। প্যারিস এবং ইতালি থেকেও এসেছিলেন অনেক কবিতাপ্রেমী।
ইস্ট লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টার আজ কবিতার জন্য নিবেদন করেছে নিজেকে। যেন সে নিজেকে বারবার বুঝিয়ে দিচ্ছে_ আজ সারাদিন কবিতার দিন। কবিদের বরণ করার জন্যই সে নিজেকে রাঙিয়ে নিয়েছে রঙিন সাজে। একদিকে মূল মঞ্চ, একদিনে কবিদের বই বিক্রির মেলা আর একদিকে কবি ও দর্শনার্থীদের জন্য আপ্যায়নের সু ব্যবস্থায় ঘরটির প্রতিটি দৃশ্যই যেন কবিতাময় হয়ে উঠেছে।
অনুষ্ঠান শুরু হলো স্থানীয় সময় সকাল এগারোটায়। ‘তুমি সুন্দর তুমি সত্যের, তুমি সাম্যের / কবিতা তুমি আর এক নাম জীবনের’ কবি ইকবাল হোসেন বুলবুলের কথায় এই সমবেত উদ্বোধনী সঙ্গীত দিয়ে শুরু করা হয় দিনব্যাপী বাংলা কবিতা উৎসবের। তারপর আয়োজক ও অতিথিদের সংক্ষিপ্ত ভাষণ শেষে কবিতা চলচ্চিত্র নাচে গানে জমে ওঠে এই কবিতার দিন। সংগঠনের বর্তমান সভাপতি কবি ইকবাল হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক কবি শামসুল হক এহিয়া, ট্রেজারার হেলাল উদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি ফারুক আহমেদ রনি ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের সংহতির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও আগামী দিনের কবিতা উৎসবকে ঘিরে তাদের স্বপ্নের কথা শোনান। সংহতির অন্যতম স্বজন কবি শামীম আজাদ উৎসব ও সংগঠনের নানা দিক নিয়ে নিজের ভাললাগার কথা জানান।
অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছিলেন অগণিত কবি ও শুভানুধ্যায়ীগণ। বার্মিংহাম থেকে কবি মুজিব ইরম, কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো বিভিন্ন সিটি থেকে দলে দলে কবিতাপ্রেমীরা দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে থাকেন। কয়েকটি পর্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমবেতদের অংশগ্রহণে দর্শক পর্বে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা অবধি দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা কোনো কবিতার প্রোগ্রামে দর্শক ধরে রাখার কাজটি মোটেই সহজ কোনো ব্যাপার নয়। এই দিনে যে কাজটি অনায়াসেই করতে পেরেছে ‘সংহতি’। দর্শক সারিতে সারাদিন এক মুহূর্তের জন্যও কোনো তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। অগণিত দর্শককে দেখেছি অডিটোরিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কবিতা শুনতে। ব্রিটিশ জনপ্রিয় কবি স্টিফেন ওয়াটস বাংলাদেশের অধিকার বঞ্চিত নারীদের নিয়ে লেখা কবিতা পাঠ করে অনুষ্ঠানে এক অন্যরকম আবহ তৈরি করেন। বাংলাদেশ, কানাডা, জার্মানি, প্যারিস ও ইতালি থেকে আমন্ত্রিত অতিথি কবি ও লন্ডন প্রবাসী বাঙালি কবিদের নানা স্বাদের কবিতাপাঠ, ভাষণ-সম্ভাষণে দিনমান যেন এক অনন্য কবিতাময় হয়ে উঠেছিল তৃতীয় বাংলা তথা ইস্ট লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টার। এছাড়াও ছিল নির্বাচিত কবিদের কবিতা থেকে আবৃত্তি। কবিতা আবৃত্তি করে শোনান রেজোয়ান মারুফ, মুনিরা পারভীন ও সালাহউদ্দীন শাহীন। অন্যদের মধ্যে আরো যারা কবিতা পাঠ করেন তারা হলেন_ কাদের মাহমুদ, শামীম আজাদ, মাশুক ইবনে আনিস, মুজিব ইরম, দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু, মিলটন রহমান, মঞ্জুলিকা জামালী, অলি রহমান, কাজল রশীদ, নিতুপূর্ণা, শামীম শাহান, ওয়ালী মাহমুদ, শাহনাজ সুলতানা, খাতুনে জান্নাত, আনোয়ারুল ইসলাম অভি, শামসুল হক, আতাউর রহমান মিলাদ, মাজেদ বিশ্বাস, আহমদ ময়েজ, তুহিন চৌধুরী, মতিউর রহমান সাগর প্রমুখ।
এবারের কবিতা উৎসবে সংহতি মরণোত্তর পদকে সম্মানিত করা হয় কবি ও শিশুতোষ লেখক ডা. কুদরত উল ইসলামকে। বাংলা সাহিত্যে সার্বিক অবদানের জন্য কবি, কথাশিল্পী ও নাট্যকার ডা. মাসুদ আহমেদকে প্রদান করা হয় আজীবন সম্মাননা পদক। বাংলা কবিতায় অবদানের জন্য কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু ও বিলেতে বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য কবি ও ছাড়াকার দিলু নাসেরকে সংহতি সাহিত্য পদকে সম্মানিত করা হয়। এছাড়া আমন্ত্রিত কবিদেরকে গুণীজন ও বিশেষ সম্মাননা পদকে ভূষিত করা হয়। কবি আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ও কবি নির্মলেন্দু গুণ প্রত্যেকের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন।
সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে এবারের কবিতা উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছিল সদ্য প্রয়াত জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে। আবু তাহেরের নির্মাণে হুমায়ূন আহমেদের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত ডকু সিনেমাও প্রদর্শন করা হয়।
আয়োজক সংগঠন ‘সংহতি সাহিত্য পরিষদ’ দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে তাদের নানামাত্রিক সাংস্কৃতিক কর্মকা- পরিচালনা করলেও এরকম নিরেট কবিতা উৎসবের আয়োজন করছে গত ৫ বছর ধরে। এ উৎসবে ইতোপূর্বে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বনামখ্যাত কবি বেলাল চৌধুরী, রফিক আজাদ, মহাদেব সাহা, আসাদ চৌধুরী, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, মুস্তাফিজ শফিসহ আরো অনেকে। এছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসী বাঙালি কবিরা প্রতিবছরই এ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তৃতীয় বাংলার এই কবিতা উৎসবকে রাঙিয়ে যাচ্ছেন।
সংহতি শুধু উৎসব অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি তাদের কর্মকা-। কবিতা ও সাহিত্যকেন্দ্রিক কিছু প্রকাশনা ও জনকল্যাণমুখী কিছু কর্মকা-ও তারা পরিচালনা করে আসছে।
প্রতিবছরই তারা আমন্ত্রিত অতিথিদের যাতায়াত, আবাসন, আপ্যায়ন ব্যয় থেকে শুরু করে তাদেরকে ইংল্যান্ডের দর্শনীয় স্থানগুলো সাধ্যানুযায়ী পরিদর্শন করিয়ে থাকে। এবারও তার কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। ২৮ আগস্ট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে রাত ৯ টায় যাত্রা শুরু করে আমরা লন্ডনের হিথ্রো বিমান বন্দরে পেঁৗছাই ২৯ আগস্ট ভোর সোয়া ছয়টায়। হিথ্রোতে নেমেই সংগঠনের সদস্যদের কুশলী ও দক্ষ পরিচালনা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি। বিমানবন্দর থেকেই তারা আমাদের দেখভালের যাবতীয় দায়িত্ব বুঝে নেন। ট্রেজারার হেলাল উদ্দিনের তত্ত্ববধানে আমাদের আবাসনের ব্যবস্থা করেন ৬৫, পোর্টট্রি স্ট্রিট, পপলারের এক চমৎকার ফ্ল্যাটে। কবি নির্মলেন্দু গুণ ও আমার জন্য একটি পরিপাটি কক্ষ এবং কবি মাসুদ খান ও মারুফ রায়হানের জন্য আর এক মনোরম কক্ষে শুরু হয় কবিতার জন্য আমাদের লন্ডনে বসবাস। ফ্ল্যাটে ওঠার পর থেকেই সংহতিকেন্দ্রিক অসংখ্য কবি ও কবিতাপ্রেমী আমাদেরকে উদ্দেশ করে চলে আসেন আমাদের ফ্ল্যাটে, জমিয়ে তোলেন কবিতার আড্ডা। শাহেদ চৌধুরী, তুহিন চৌধুরী দম্পতির আপ্যায়নের ধরনে সত্যিই মনটা বিগলিত হয়ে যায়। কবিতা পাঠ করেন কখনো কবি নির্মলেন্দু গুণ, কখনো মাসুদ খান, কখনো মারুফ রায়হান, কখনো আমি_ আর মুজিব, বুলবুলসহ ওখানকার কবিরা তো আছেনই। এই করতে করতে খুব নিকটে এসে যায় ২ সেপ্টেম্বর সেই কাঙ্ক্ষিত দিন, সারাদিন কবিতার দিন। লন্ডনের বাংলা কবিতা উৎসব ২০১২।
তবে এই কবিতা উৎসবের বাইরে শুধুই কি ফ্ল্যাটে বসে দিনগণনা? কখনো বুলবুল, কখনো এহিয়া, কখনো হেলাল, কখনো তাহের, কখনো সেলিম, কখনো শাহেদ, কখনো শাহান আমাদেরকে তুলে নিয়ে গেছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনে। কবি নির্মলেন্দু গুণের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ও আগ্রহে উৎসবের পরদিনই রেজোয়ান মারুফের নেতৃত্বে কবি শাহ আলমের গাড়িতে আমরা দেখে এলাম ক্যানসাল গ্রীনের এক সিমেট্রিতে রবীন্দ্রনাথের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সমাধি। ৩১ আগস্ট সেলিমউদ্দিন ও তুহিন চৌধুরী আমাদের নিয়ে গেলেন সেই স্বপ্নের টেমস্ নদীর পারে। টেমসের জল এই প্রথম দেখতে পেরে আবেগে ভিজে এল চোখ। দেখলাম টাওয়ার ব্রিজ, লন্ডন টাওয়ারসহ টেমসের চারপাশের নানান স্থপনা। আর ফাঁকে ফাঁকে চলল স্থানীয় টিভি ও সংবাদপত্রগুলোতে আড্ডা ও কবিতাপাঠ।
আবু তাহের আমাদের নিয়ে গেলেন কেন্টের এক ফলের বাগানে। যেখানে নিয়ম করাই আছে_ বিনামূল্যে ইচ্ছা মতো বাগানের ফল খেতে পারার। অপার উৎসাহে মেমে পড়লাম ফ্রুট পিকিংয়ের কাজে। ঢুকেই চোখে পড়ল পেয়ার গাছে ঝুলে আছে থোকা থোকা অচেনা পেয়ার। ছিঁড়ে খেতেই বুঝতে পারলাম কী সুস্বাদু এই ফল। গাছ থেকে ছিঁড়ে খেলাম, স্ট্রবেরি, রাজবেরি, আপেল, প্লাম্পের মতো নানা জাতের সুমিষ্ট ফল। তাই দুপুরে আর ওই দিনের লাঞ্চ করার উপায় ছিল না।
২ তারিখ উসবের পর থেকেই শুরু হলো আমাদের অন্য আরেক জীবন। কয়েক দিন ঘুরে ঘুরে বন্ধনহীন দেখে নিলাম লন্ডনের কখনো মেঘলা কখনো উজ্জ্বল আর রাতের আলো ঝলমলে দৃশ্যকে। ফাঁকে ফাঁকে চলতে থাকলো বিভিন্ন বাড়িতে নিমন্ত্রণ আর কবিতা পাঠের আড্ডা। ৯ সেপ্টেম্বর আমরা সবাই স্টার্টফোর্ট অন এভন, শেক্সপিয়ারের বাড়িতে যেন শেক্সপিয়ারের নিমন্ত্রণে বেড়াতে এলাম। কী মনোরম এক বাড়িতে বাস করতেন শেক্সপিয়ার! আর তার চারপাশের দৃশ্য আরো কী যে অভাবনীয় সুন্দর! পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এভন নদীটি যেন এই বিখ্যাত কবি-নাট্যকারের মনের মতো করেই সৃষ্টিকর্তা এখানে শায়িত রেখেছেন।
বার্মিংহামের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখান কবি মুজিব ইরম, দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু, চলচ্চিত্র নির্মাতা মকবুল চৌধুরী ও নাট্যকর্মী তারেক চৌধুরী। সুইনডন, অক্সফোর্ড, স্টোনহেঞ্জ, সেইলসবারি, বর্নমথে
ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কোনো দিন মন থেকে মুছে যাবার নয়। এসব অভাবনীয় সুন্দর দর্শনীয় জায়গাগুলো আমাদেরকে ঘুরিয়ে দেখান কথাশিল্পী কামাল রাহমান, ডা. রাফি আহমেদ ও বিজু। ক্যামব্রিজ, ব্রিটিশ লাইব্রেরি, ব্রিটিশ মিউজিয়াম, মিলেনিয়াম ডোম, বাকিংহাম প্যালেসের মতো আরো অসংখ্য দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখান ইকবাল বুলবুল, এহিয়া, নিতু, কাজল, ওয়ালীসহ একঝাঁক তরুণ কবিতাকর্মী।
একটি বিষয় খুব স্পষ্ট মর্মে গেঁথে গেল যে, এখন আর ইংল্যান্ডের প্রবাসী বাঙালিরা তাদের নিজেদেরকে ‘ডায়াস্পরা’ বা ‘অনাবাসী’ বলতে মোটেই রাজি নন। এ ধারণাকে তারা তাদের পূর্বপুরুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান। পূর্বপুরুষেরা আজকের এই ভূমিটি তৈরি করে দিয়েছেন। তাদের বৃটিশবাঙালি সন্তানেরা নিজেদেরকে কখনো ডায়াস্পরা বলে মেনে নেবে না। এখন আর তারা বিক্ষিপ্ত নয়। এখন আর কোনোভাবেই তাদের আলাদা ভাববার অবকাশ নেই। তারা মনে করেন তাদের ভাষা সাহিত্য এখন বৃটিশ মূল ধারারই অংশ। তারা এখন বৃটেনে তাদের অবস্থানকে ‘তৃতীয় বাংলা’ বলে স্বীকার করছে। এই তৃতীয় বাংলাকে তারা বাংলা কবিতার চারণভূমি বলতেও দ্বিধা করছে না। সমগ্র বৃটেনে দীর্ঘকালের বাংলা কবিতা চর্চা এবং দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক কর্মকা- তাদের এ দাবিকে অনেক বেশি যুক্তিপূর্ণ করে তুলেছে।
জীবিকা নির্বাহের সীমাহীন ব্যস্ততা, প্রতিকূল আবহাওয়া ও নাগরিক নির্মমতাকে উপেক্ষা করে ইংল্যান্ডের আকাশে বাতাসে যে কবিতার তুলো উড়তে দেখেছি, তাতে একজন বাংলা কবিতাকর্মী হিসেবে নিজেকে অনেক বেশি ভাগ্যবান মনে করেছি। বাংলা কবিতা উৎসবকে ঘিরে দীর্ঘ ২৪ দিনের বিলেত ভ্রমণ শেষে উইলিয়াম শেক্সপিয়ার, ম্যাথু আর্নল্ড, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, জন মিল্টন, স্যামুয়েল কোলরিজ, জন ডান, হ্যারল্ড পিন্টার প্রমুখ মহান কবিদের দেশ থেকে আরো বেশি আশাবাদী হয়ে দেশে ফিরেছি। কবিতার জয় অনিবার্য।

Posted in সাম্প্রতিক | মন্তব্য দিন

বিলেতে বাংলা সাহিত্য চর্চা এবং নতুন প্রজন্ম


মাসুদা ভাট্টি

এই যে ব্রিটেনের দুষ্প্রাপ্য রোদের গ্রীষ্ম, মানুষ যখন ছুটছে ছুটি কাটাতে এদেশে-সেদেশে নিদেন ব্রিটেনেরই কোনও সমুদ্র সৈকতে তখন কয়েকজন সাহিত্য-প্রেমী, বাংলা ভাষা-প্রেমী মিলে আয়োজন করছেন কবিতা উৎসব। কী প্রয়োজন ছিল এসবের? এর চেয়ে তো ভালো ছিল বাংলাদেশ থেকে কয়েকজন ধুম-ধারাক্কা ধরনের শিল্পী-নাচিয়ে এনে একটা জমজমাট অনুষ্ঠান আয়োজন করা, যার টিকিট বিক্রি থেকে আয়োজকরা অন্ততপক্ষে ছ’মাসের জীবন চালানোর রসদ জোগাড় করতে পারতেন। কিংবা তার চেয়েও ভালো হতো, ঘরের খেয়ে বনের মোষ না তাড়িয়ে এই ছুটিটা নিশ্চিন্তে উপভোগ করাটা। কিন্তু সেরকম কিছুই না করে তারা কেন একটি অলাভজনক কবিতা উৎসবের আয়োজন করলেন? কেনই বা তারা দীর্ঘ মাসাধিক সময় খরচ করে, উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে এই কবিতা উৎসব করতে যাচ্ছেন? আসলে এই প্রশ্নটির উত্তরের মধ্যেই নিহিত রয়েছে “বিলেতে বাংলা সাহিত্য চর্চা এবং নতুন প্রজন্ম” শীর্ষক নিবন্ধের মূল বক্তব্য।

মানুষের ইতিহাস এবং সাহিত্য চর্চা ঠিক একই পায়ে হেঁটে আজকে যেখানে মানুষের অবস্থান ঠিক সেখানেই সাহিত্য চর্চারও অবস্থান। সেই গুহাবাস যুগে মানুষ তার ভেতরকার সৃষ্টিশীলতাকে ফুটিয়ে তুলেছিল গুহাগাত্রে ছবি এঁকে। তারপর মানুষ ক্রমশ: এগিয়েছে আজকের দিকে, তার সৃষ্টিশীলতার প্রকাশও এগিয়েছে একই গতিতে। তাই একথা জোর দিয়েই বলবো যে, বাংলাদেশেও যে কারণে একজন মানুষ সাহিত্য চর্চা করেন ঠিক একই কারণে প্রবাসে তথা এই বিলেতেও একজন বাঙালি সাহিত্য চর্চা করেন। মনের তাগিদে সৃষ্টিশীলতার প্রকাশ ঘটানোর এই প্রচেষ্টা মানুষের শাশ্বত এবং প্রকৃতিদত্ত; এর বাইরে অন্য কোনও কারণ নেই, থাকতে পারে না।তবে প্রশ্ন হলো, সাহিত্য চর্চাকে জীবন ও জীবিকার প্রধান বাহক হিসেবে নেয়াটা কতোখানি সম্ভব বা তা আদৌ সম্ভব কি না? আজ ইংরেজিসহ বিশ্বের প্রধান কয়েকটি ভাষার লেখককুল শুধুমাত্র লিখেই জীবিকা ধারণ করেন। এক্ষেত্রে অনেক ভাষার লেখককেই জীবন ধারণের জন্য লেখালেখির বাইরে কিছু না কিছু করতে হয়, বা করে থাকেন। এমনকি বাংলাদেশেও হাতে গোনা দু’একজন ছাড়া প্রত্যেক লেখকই লেখালেখির বাইরে জীবন ধারণের জন্য কিছু না কিছু করে থাকেন। তাতে কি তাদের সৃষ্টিশীলতা কিংবা যা লেখেন তার শিল্পগুণ কিছুমাত্র কমে? আমি বিশ্বাস করি না। পূর্ণ সময়ের লেখক ও খণ্ডকালীন লেখক বলতে আসলে কিছু নেই, একজন মানুষ তার ভেতরকার তাগিদে যাই-ই কিছু কলমের ডগা দিয়ে খাতায় ফুটিয়ে তোলেন, তাই-ই শিল্প, এর মান নিয়ে যে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন কিন্তু তার এই তাগিদ কিংবা তা প্রকাশ করার তাড়না নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনওই অবকাশ নেই। একথাগুলি এ জন্যই বলছি যে, এই প্রবাসে যখন প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যায়ন হয় অর্থের নিক্তিতে, জীবনের অপর নাম যেখানে ছুটোছুটি সেখানে একজন মানুষ কেন লেখেন, সেই প্রশ্নের উত্তরটা খোঁজার জন্য।
আজকে এখানে যারা উপস্থিত আছেন তাদের মধ্যে অনেকেই কিছু না কিছু লেখেন। কেউ কবিতা বা ছড়া, কেউ গল্প, কেউ উপন্যাস, কেউ বা প্রবন্ধ। একথা মেনে এবং জেনেই তারা লেখেন যে, এগুলো হয়তো কোনও দিনই কোথাও ছাপা হবে না কিংবা ছাপা হলেও তা হয়তো একসময় পুরনো কাগজ হয় হারিয়ে যাবে, কিন্তু তাতে কি? লেখার আনন্দেই আমরা লিখি, তাই নয় কি? সময়ের ক্লান্তি, কর্মক্ষেত্রের গ্লানি, সংসারের হাজারো ঝামেলা সবকিছুই তুচ্ছ হয়ে যায় এক লাইন কবিতার কাছে, এক প্যারা ছোট গল্পের কাছে কিংবা একটি ছোট্ট উপন্যাসের কাছে। এই ব্রিটেনে দীর্ঘ দিন যাবত বসবাস করছেন একুশের গানের অমর গীতিকার আবদুল গফফার চৌধুরী। এখন তিনি পৌঁছেছেন পেনশনের বয়সে কিন্তু তিনি যখন এখানে এসেছিলেন তখন তিনি যুবক ছিলেন, ইচ্ছে করলেই লেখালেখির এই পথ ছেড়ে দিয়ে তিনি যে কোনও ব্যবসা করতে পারতেন, পারতেন কোনও প্রতিষ্ঠানে একটি চাকুরী নিয়ে নিশ্চিত জীবন কাটিয়ে দিতে। কিন্তু তিনি তা করেননি, তিনি হেঁটেছেন লেখালেখির ভয়ঙ্কর এক অনিশ্চিত পথে। প্রতিদিনকার খবরের কাগজে তিনি কলাম লিখেছেন, চেষ্টা করেছেন অর্থ ধার করে কাগজ বের করতে আর এর জন্য তিনি কম হেনস্থা হননি, জীবনের কাছে বার বার তাকে হোঁচট খেতে হয়েছে, অর্থনৈতিক সচ্ছলতার মুখ দেখেননি, এমনকি হয়তো একটি রাতও তিনি অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়ে ঘুমোতেও যেতে পারেননি। কিন্তু এর বিনিময়ে তিনি কি পেয়েছেন? হয়তো রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে তিনি সবার কাছে পরিচিত হয়েছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কিছু বলার জন্য তিনি সোল এজেন্সি অর্জন করেছেন এবং সর্বোপরি বাংলা ভাষার একজন লেখক হিসেবে তার নাম প্রত্যেককেই উচ্চারণ করতে হবে কিন্তু তিনিতো এটা না করলেও পারতেন? আমি নিশ্চিত যে, শুধুমাত্র খ্যাতির জন্য মানুষ জীবনের এতো বড় ছাড় দিতে পারে না। এর পেছনে থাকে আরও অনেক বড় কিছু, সেটা হয়তো আর কিছুই নয়, মানুষের অন্তরের তাড়না, দেশ ও ভাষার প্রতি ভালোবাসা এবং সেই সঙ্গে লেখার প্রতি প্রতিশ্রুতি। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী তাই বিলেতে বাংলা সাহিত্য চর্চার ইতিহাসের একজন আইকন। আমরা তাকে কেন্দ্র করেই এখানকার সাহিত্য চর্চা এবং নতুন প্রজন্ম সম্পর্কে আলোচনা শুরু করতে পারি, বিস্তারও ঘটাতে পারি এবং তাকে দিয়েই শেষ করতে পারি।
এখানে একজন লেখক যখন একটি কবিতা কিংবা ছোটগল্প বা প্রবন্ধ লেখেন তখন তা ছাপানোর জন্য প্রথমেই পাঠান স্থানীয় বাংলা পত্রিকাগুলোতে। সম্পাদকের কাঁচির ভেতর দিয়ে যখন তা মুদ্রিত হয়ে পাঠকের সামনে আসে তখন তা একজন লেখককে যে কতোখানি ভালোলাগায় অভিভূত করে তা ভাষা দিয়ে প্রকাশ করার যোগ্যতা কিন্তু সেই লেখক রাখেন কিনা সন্দেহ। কারণ এই অনুভূতি শুধুমাত্র উপলব্ধি করা যায়, তাকে ভাষা দিয়ে প্রকাশ করা আসলেই সম্ভব নয়। এই আনন্দ অর্থ দিয়ে কেনা সম্ভব নয় বলেই একজন সফল ব্যবসায়ী, একজন উচ্চ বেতনের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে একজন সাধারণ গৃহিনী পর্যন্ত সকল কর্মব্যস্ততার পরও খাতা-কমল ধরেন, কিছু একটা লেখার চেষ্টা করেন। আর তাদের মধ্য থেকেই বেরিয়ে আসেন একেকজন লেখক, আগেই বলেছি সবাই হয়তো খুব বড় লেখক হন না, সবার লেখার সাহিত্য মানও ঠিক যোগ্যতার মাপ কাঠিতে টেকে না, কিন্তু তাই বলে কারো প্রচেষ্টাকেই খাটো করে দেখার অবকাশ নেই।
আজ এই ব্রিটেন থেকে লিখে বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে সুনাম অর্জন করেছেন এমন অনেকেই আছেন। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমরা এই প্রবাসী বাঙালিদের ভেতর থেকেই একজন ঝুম্পা লাহিড়ী কিংবা খালেদ হোসেইনিকে পাবো কিন্তু তার আগে বিলেতে বাংলা সাহিত্য চর্চার বর্তমান অবস্থাটা জেনে নেওয়া যাক। এখানে একটি কথা জোর দিয়েই বলবো যে, এখানে সাহিত্য চর্চাটা খুব বিক্ষিপ্ত।তবে এটাও ঠিক যে, আজকের বাস্তবতায় বাংলাদেশেও যেখানে সাহিত্য চর্চাটা বিক্ষিপ্ত, একজন পুরোটাই ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সীমাবদ্ধ সেখানে বিলেতের বাঙালিদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। একটু ব্যাখ্যা করছি বিষয়টা। বাংলাদেশে আজকাল লেখক তৈরি করে কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা। এর মধ্যে বিশেষ একটি পত্রিকা আবার তাদের গৃহপালিত লেখক ছাড়া কাউকে লেখকের মর্যাদাই দিতে চায় না। তাদের সাহিত্য পাতায় যারা লেখেন তাদের বইই পুরস্কৃত হয় এবং তারা লেখকের মর্যাদায় ভূষিত হন। প্রতি বছর ঘটা করে কোনও কর্পোরেটের স্পন্সরশীপে জমজমাট আনুষ্ঠানিকতায় এই লেখকদের পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়। আর বলাই বাহুল্য যে, এতে প্রতিভার বিকাশ না ঘটে, অপমৃত্যুই ঘটে বেশি। এখানে উপস্থিত যারা আছেন তাদের মধ্যে যারা গল্প-উপন্যাস-কবিতার পাঠক তাদের কাছে আমার একটি প্রশ্ন আছে, বুকে হাত রেখে বলুন তো গত কয়েক বছরে আপনারা এমন কোনও বাংলা উপন্যাস পড়েছেন কি যা বাংলা সাহিত্যের ধ্রুপদী আসন দখল করতে পারে বলে আপনাদের মনে হয়েছে? আমি নিজে একজন লেখক, আমার নিজেরও বেশ কয়েকটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে, তারপরও আমি নিশ্চিন্তে বলতে পারি যে, না এমন কোনও উপন্যাস আমি অন্তত পড়িনি যাকে আমি ধ্রুপদী আসনে বসাতে পারি। অবশ্যই এখানে পশ্চিম বাংলা থেকে প্রকাশিত উপন্যাসের কথা আমি বলছি না, আমি বলছি বাংলাদেশের লেখক এবং তাদের লেখার কথা।
তার মানে কি ভালো উপন্যাস লেখা হচ্ছে না? আমি এটাও মানতে নারাজ যে, ভালো উপন্যাস কেউ লিখছেন না, কিংবা লিখতে পারেন না। আশি পাতায় উপন্যাসের ব্যাপ্তি বেঁধে দেওয়া হলে, ছোটগল্প আর কবিতার বই বিক্রি হয় না বলে প্রকাশকরা ছাপাতে আগ্রহী না হলে সাহিত্য চর্চার অবনতি ঘটাটাই স্বাভাবিক। আর সেই সঙ্গে যদি লেখককে তার রাজনীতি কিংবা ব্যক্তিগত অবস্থান দিয়ে বিচার করাটাই কালচারে দাঁড়িয়ে যায় তাহলে সাহিত্য চর্চার ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ না করে উপায় থাকে কি? তাই শুধু এই বিলেতে বাংলা সাহিত্য চর্চার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা নয়, আমি সমগ্র বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যৎ নিয়েই আসলে যার পর নাই শঙ্কিত। কেন শঙ্কিত সে কথা আস্তে-ধীরে বলি, তার আগে বিলেতে বাংলা সাহিত্য চর্চার ভেতর-বাহির নিয়ে কিছু কথা বলে নিই।
আগেই বলেছি যে, সাহিত্য চর্চার খাতটি মূলত: অলাভজনক, কোনও কোনও ক্ষেত্রে বরং অর্থ ব্যয়ের কারণ হয়ে থাকে। সময়ের অপচয়তো বটেই। কিন্তু তারপরও মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম বলেই মানুষ সাহিত্য চর্চা করে থাকে। সাহিত্য চর্চা একটি চলমান বিষয়, নানা সময়ে এর দিক এবং প্রক্রিয়াগত পরিবর্তন ঘটে থাকে। যেমন এক সময় কবি-লেখকগণ একসঙ্গে বসে নিজেদের লেখা পড়তেন এবং তা প্রকাশের আগে একে অপরের সমালোচনার মাধ্যমে লেখাকে জারিত করে তারপর তা প্রকাশ করতেন। এখনও যে এরকমটি ঘটে না তা নয়, এখন লেখকরা নানা শিবিরে বিভক্ত কিন্তু তারপরও একেকটি গ্রুপ নিজেদের মধ্যে তাদের লেখা নিয়ে নিশ্চিত ভাবেই আলোচনায় বসেন, তবে একথাও ঠিক যে, সেখানে সমালোচনার চেয়ে পিঠ চাপড়ানিই বেশি হয়ে থাকে। তারপরও এর প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করা যায় না। দ্বিতীয় যে পথটি বহুল ব্যবহৃত তাহলো, পত্র-পত্রিকার সাহিত্য পাতায় প্রকাশিত লেখা এবং তা নিয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলোচনা ও চিঠি বা ই-মেইলে পাওয়া পাঠকের সমালোচনা। ব্রিটেনের বাংলা পত্রপত্রিকাতো বটেই, বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিকগুলি খুললেও আজ বিলেত প্রবাসী অনেকেরই লেখা পাওয়া যায়। আর তৃতীয় যে মাধ্যমটি আজ বাংলাদেশের মূলধারায় সাহিত্য চর্চার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি তাহলো একুশের বইমেলা। আজকাল শুধু প্রবাসী লেখকরাই নন, অনেক সচেতন প্রবাসী পরিবার ফেব্রুয়ারি মাসকে দেশে বেড়াতে যাওয়ার জন্য বেছে নেন কারণ এই মাসে বাংলাদেশ ব্যস্ত হয়ে পড়ে বই মেলা নিয়ে।এই বই মেলাকে কেন্দ্র করে যদি প্রতি বছর হাজার পাঁচেক পুস্তক প্রকাশিত হয়ে থাকে তাহলে তার মধ্যে পঞ্চাশের অধিক গ্রন্থের লেখক প্রবাসী বাঙালি লেখক এবং তার মধ্যে নিঃসন্দেহে বিলেত প্রবাসী লেখকরা এগিয়ে আছেন সংখ্যার দিক থেকে।
একটি মজার বিষয় আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি না করে পারছি না। আজকাল দেশে প্রবাসী লেখকদের বেশ কদর, কারণ কিছু প্রকাশক এই প্রবাসী লেখকদের কাছ থেকে সাহিত্য চর্চার হাদিয়া বেশ চড়া হারেই আদায় করে থাকেন। এমনিতেই বাংলা ভাষায় লিখে অর্থ উপার্জন হিমালয় ডিঙানোর মতোই দুরূহ তার ওপর যদি আবার অর্থ দিয়ে বই প্রকাশ করতে হয় তাহলে প্রবাসী লেখকের সম্মানী প্রাপ্তিটা বোধ হয় অধরাই থেকে যাবে। বিষয়টি এখানে উপস্থিত লেখকদের সকলকেই ভেবে দেখার অনূর্ধ্ব জানাচ্ছি। যাই-ই হোক, দেশে যেমন ঈদ সংখ্যায় কে ক’টা উপন্যাস লিখলেন, আর বই মেলায় কার ক’টা বই বেরুলো তা দিয়ে লেখকের মান বিচার হয় তেমনই বই প্রকাশের আর লেখা প্রকাশের দিক দিয়ে বিচার করলে বিলেতে বাংলা সাহিত্য চর্চা ভালোই হয়। আমি সাহিত্য চর্চার মান নিয়ে কিছু বলছি না, তা নিয়ে অন্য কোনও সময়, অন্য কোনও খানে কথা বলা যাবে।
এখন নতুন প্রজন্ম নিয়ে কিছু বলে এই নিবন্ধের ইতি টানতে চাই। বলা হয়েছিল যে, কম্পিউটার মানুষের বই পাঠের অভ্যাস পরিবর্তন করে দেবে এবং পুস্তক ব্যবসা লাটে উঠবে। কিন্তু তা হয়নি, এমনকি সিনেমা-টেলিভিশনের মতো শক্তিশালী মাধ্যমও পারেনি বই পাঠের জনপ্রিয়তা কমাতে। এটা প্রমাণিত হয় এই ব্রিটেনে একেকটি বইয়ে ৫-৭ মিলিয়ন কপি বিক্রি হওয়ার ঘটনা থেকেই। কিন্তু বাংলাদেশ এবং বাংলা সাহিত্যের বেলায় এর সত্যতা খানিকটা পাওয়া যায়। স্যাটেলাইট টেলিভিশন যদি বাঙালি মধ্যবিত্তের বই পাঠের অভ্যাসে চিড় ধরিয়ে থাকে তাহলে কম্পিউটার নিঃসন্দেহে বাঙালি তরুণ প্রজন্মকে বই পড়া থেকে দূরে সরিয়েছে খানিকটা হলেও। তবে একথাও সত্য যে, বাংলাদেশে বাংলা মাধ্যমে পড়া তরুণ প্রজন্ম এখনও বই পড়ে, বই কেনে এবং তারাই এখনও পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যৎ। অপরদিকে ইংরেজি মাধ্যমে পড়া ডিজুস প্রজন্ম আধো বাংলা আধো ইংরেজিতে কথা বলে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী নিয়ে কর্পোরেট বাণিজ্যে চাকুরী নিয়ে কাড়ি কাড়ি অর্থোপার্জন করে ঠিকই কিন্তু তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে সাহিত্যের অবস্থান নিতান্তই শূন্যের কোঠায়। ধরে নিচ্ছি তারা তারাশঙ্কর, বিভূতিভূষণ কিংবা সৈয়দ শামসুল হকের বাংলা উপন্যাস পড়তে পারে না কিন্তু তাই বলে তারা কিন্তু হালের অমিতাভ ঘোষ, অরুন্ধতী রয় কিংবা খালেদ হোসেইনিও যে খুব একটা পড়ে তা কিন্তু নয়। একই কথা প্রযোজ্য বিলেতের তরুণ বাঙালি প্রজন্মের ক্ষেত্রেও। তারা নিজেদেরকে ব্রিটিশ বলে ভাবে ঠিকই, কিন্তু ক’জন বাঙালি তরুণ মার্গারেট এ্যাটউড বা মার্টিন এ্যামিস পড়ে তা নিয়ে আমার ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। কেউ কেউ হয়তো পড়ে ঠিকই কিন্তু তাদের হাতে গুণে বের করা যায়। তার মানে এটাই যে, বাঙালি তরুণ প্রজন্মের কাছে শুধু বাংলা সাহিত্যই নয়, বিশ্ব সাহিত্যও উপেক্ষিত। তারা নিজেদের পরিচিতি নিয়ে এক মহা বিপাকে পড়েছে, তারা না পারছে মেইন স্ট্রীমে নিজেদের অবস্থান করে নিতে, না পারছে হুমায়ূন আহমেদ বা আনিসুল হকের রচনার স্বাদ নিতে। তারা বেড়ে উঠছে সাহিত্য চর্চাহীন এক উদ্ভট শূন্যতায়। এতে তাদের দোষ কতোখানি আর কতোখানি তারা পরিস্থিতির শিকার তা সত্যিই গবেষণার দাবি রাখে। এই স্বল্প পরিসরে আমি তার কারণ খুঁজতে যাবো না, সে জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থী।
তবে আগেই বলেছি যে, এই শূন্যতার ভেতর থেকেও হয়তো আমরা একদিন পেয়ে যাবো একজন ঝুম্পা লাহিড়ী কিংবা খালেদ হোসেইনিকে। কেউ হয়তো বলবেন যে, মণিকা আলী আছেন আমাদের। হ্যাঁ তিনি আছেন ঠিকই, তাকে নিয়ে আমরা গর্বিতও, ব্রিটিশ মূলধারায় আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করতে পারি কিন্তু নিজের কাছে সত্য গোপন করার নামতো আত্মপ্রবঞ্চনা, তাই না? আমি মাঝে মাঝে ভাবি, এই যে, প্রবাসে বসে বাংলায় লিখছি, একটি দিনের অনেকটা সময় ব্যয় করি এই লেখালেখির পেছনে, অনেক কিছু স্যাক্রিফাইস করতে হয় এই লেখার জন্য, কেন করছি এসব?হয়তো এই সময়টা অন্য কিছুর পেছনে দিলে এই প্রবাস জীবনে খানিকটা স্বাচ্ছন্দ্য যোগ করা যেতো। এসব চিন্তা যখন মনের ভেতর আসে তখন নিজেকে কষে এক ধমক দিই, বুকের মাঝে চিনচিনে এক গর্ব নিয়ে বলি, “আমি লেখক, আমি লিখি, আমি বাংলা ভাষায় লিখি, আর কেউ না হোক, আমি নিজের জন্য লিখি, এই গ্রীষ্মে স্পেইনের উজ্জ্বল সূর্য যাকে ইচ্ছে তাকে আনন্দ দিক, আমাকে আমার গল্পের একটি শব্দ তার ঢের বেশি আনন্দ দেয়। আমি সেই আনন্দে আলোকিত”। এখানে উপস্থিত যারা লেখেন, তারা কি এরকম করেই ভাবেন না? আমি নিশ্চিত যে, এরকমটাই ভাবেন।

Posted in Uncategorized | মন্তব্য দিন