কবিতা উৎসব ২০১২


লন্ডনে বাংলা কবিতা উৎসব : শীতের আকাশে তবু কবিতার তুলো ওড়ে

ওবায়েদ আকাশ:

ইস্ট লন্ডনের শহীদ আলতাফ আলী পার্কে সকাল ৯টা থেকে প্রতিদিনের পরিচিত দৃশ্যগুলো যেন নিজেকে বদলে ফেলেছে। স্থানীয় গ্রীষ্মের শেষদিকে কিছুটা শীতের তীব্রতায় প্রাত্যহিক দৃশ্যগুলো যেন চুপটি মেরে আছে আশেপাশের অন্য কোথাও। এক নতুন দৃশ্যের উচ্ছ্বাসে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে ছুটির দিনের উৎসুক লন্ডনবাসী যে যার মতো দাঁড়িয়ে পড়েছে আলতাফ আলী পার্কের নতুন দৃশ্যশোভার চারিদিকে। এ দৃশ্য আজ কবিতাপ্রেমীদের কোলাহলে। একে একে কবিতার নামে নানা সস্নোগান অঙ্কিত ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ছুটে আসছে কবিতাপাগল অগণিত মুখ। শিশু থেকে বৃদ্ধ কে না ভালোবাসে কবিতা! প্রত্যেকের দৃষ্টি ফুঁড়ে যেন বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন কবিতার সব ধারালো পঙ্ক্তি। সব কিছু ছাপিয়ে এখান থেকেই কবিতার শোভাযাত্রা শুরু করবে ‘বাংলা কবিতা উৎসব ২০১২’। এই র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করতে প্রাত্যহিক সীমাহীন ব্যস্ততাকে উপেক্ষা করে ‘সংহতি সাহিত্য পরিষদ’-এর সদস্যদের আগ্রহ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছিল_ দীর্ঘ একবছর বিরতির পর আজ আবার কবিতা উৎসব। দৃষ্টি আকর্ষণীয় তাদের নানা আয়োজন। অবাক বিস্ময়ে তাকানোর মতো আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রতি ‘সংহতি’র আচরণ ও অতিথিদের অংশগ্রহণ। এর সঙ্গে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় ও বাংলা সংবাদপত্র-টেলিভিশনের অগণিত মিডিয়াকর্মী ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যবৃন্দ। কবিতা পড়ার যে পাঠক নেই, কবিতা শোনার যে শ্রোতা নেই_ এই দৃশ্য যেন সেই ঘুণে ধরা ধারণাকে উপহাস করে চলেছে।

সকাল ১০টায় শুরু হলো দিনব্যাপী কবিতা উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজন সকালবেলার র‌্যালি। গন্তব্য উৎসবস্থল ব্রাডি আর্ট সেন্টার। র‌্যালিতে অংশ নিয়েছেন সংহতি সাহিত্য পরিষদের অগণিত সদস্যসহ তাদের ও আমাদের সংস্কৃতিকর্মীদের অভিভাবক কবি ও বিশিষ্ট লেখক-কলামিস্ট আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। বর্তমান বৃটেনের অন্যতম শক্তিমান ও জনপ্রিয় কবি স্টিফেন ওয়াটস, টাওয়ার হ্যামলেটের মেয়র, বাংলাদেশ দূতাবাসের হাইকমিশনার ছাড়াও আরো স্থানীয় গণ্যমান্য নারী-পুরুষ। আর এসময়ের বাংলা ভাষার শক্তিমান ও জনপ্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুণসহ বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে যাওয়া আমরা কয়েকজন_ কবি মারুফ রায়হান, আমি ও কানাডা প্রবাসী কবি মাসুদ খানের অংশগ্রহণে এ র‌্যালি যেন আরো বেশি বেগবান হয়ে ছুটে চলে গন্তব্যের দিকে। র‌্যালিতে অংশ নিয়েছিলেন আমন্ত্রিত অতিথি জার্মান প্রবাসী কবি নাজমুন নেসা পিয়ারী। প্যারিস এবং ইতালি থেকেও এসেছিলেন অনেক কবিতাপ্রেমী।
ইস্ট লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টার আজ কবিতার জন্য নিবেদন করেছে নিজেকে। যেন সে নিজেকে বারবার বুঝিয়ে দিচ্ছে_ আজ সারাদিন কবিতার দিন। কবিদের বরণ করার জন্যই সে নিজেকে রাঙিয়ে নিয়েছে রঙিন সাজে। একদিকে মূল মঞ্চ, একদিনে কবিদের বই বিক্রির মেলা আর একদিকে কবি ও দর্শনার্থীদের জন্য আপ্যায়নের সু ব্যবস্থায় ঘরটির প্রতিটি দৃশ্যই যেন কবিতাময় হয়ে উঠেছে।
অনুষ্ঠান শুরু হলো স্থানীয় সময় সকাল এগারোটায়। ‘তুমি সুন্দর তুমি সত্যের, তুমি সাম্যের / কবিতা তুমি আর এক নাম জীবনের’ কবি ইকবাল হোসেন বুলবুলের কথায় এই সমবেত উদ্বোধনী সঙ্গীত দিয়ে শুরু করা হয় দিনব্যাপী বাংলা কবিতা উৎসবের। তারপর আয়োজক ও অতিথিদের সংক্ষিপ্ত ভাষণ শেষে কবিতা চলচ্চিত্র নাচে গানে জমে ওঠে এই কবিতার দিন। সংগঠনের বর্তমান সভাপতি কবি ইকবাল হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক কবি শামসুল হক এহিয়া, ট্রেজারার হেলাল উদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি ফারুক আহমেদ রনি ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের সংহতির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও আগামী দিনের কবিতা উৎসবকে ঘিরে তাদের স্বপ্নের কথা শোনান। সংহতির অন্যতম স্বজন কবি শামীম আজাদ উৎসব ও সংগঠনের নানা দিক নিয়ে নিজের ভাললাগার কথা জানান।
অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছিলেন অগণিত কবি ও শুভানুধ্যায়ীগণ। বার্মিংহাম থেকে কবি মুজিব ইরম, কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো বিভিন্ন সিটি থেকে দলে দলে কবিতাপ্রেমীরা দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে থাকেন। কয়েকটি পর্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমবেতদের অংশগ্রহণে দর্শক পর্বে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা অবধি দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা কোনো কবিতার প্রোগ্রামে দর্শক ধরে রাখার কাজটি মোটেই সহজ কোনো ব্যাপার নয়। এই দিনে যে কাজটি অনায়াসেই করতে পেরেছে ‘সংহতি’। দর্শক সারিতে সারাদিন এক মুহূর্তের জন্যও কোনো তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। অগণিত দর্শককে দেখেছি অডিটোরিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কবিতা শুনতে। ব্রিটিশ জনপ্রিয় কবি স্টিফেন ওয়াটস বাংলাদেশের অধিকার বঞ্চিত নারীদের নিয়ে লেখা কবিতা পাঠ করে অনুষ্ঠানে এক অন্যরকম আবহ তৈরি করেন। বাংলাদেশ, কানাডা, জার্মানি, প্যারিস ও ইতালি থেকে আমন্ত্রিত অতিথি কবি ও লন্ডন প্রবাসী বাঙালি কবিদের নানা স্বাদের কবিতাপাঠ, ভাষণ-সম্ভাষণে দিনমান যেন এক অনন্য কবিতাময় হয়ে উঠেছিল তৃতীয় বাংলা তথা ইস্ট লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টার। এছাড়াও ছিল নির্বাচিত কবিদের কবিতা থেকে আবৃত্তি। কবিতা আবৃত্তি করে শোনান রেজোয়ান মারুফ, মুনিরা পারভীন ও সালাহউদ্দীন শাহীন। অন্যদের মধ্যে আরো যারা কবিতা পাঠ করেন তারা হলেন_ কাদের মাহমুদ, শামীম আজাদ, মাশুক ইবনে আনিস, মুজিব ইরম, দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু, মিলটন রহমান, মঞ্জুলিকা জামালী, অলি রহমান, কাজল রশীদ, নিতুপূর্ণা, শামীম শাহান, ওয়ালী মাহমুদ, শাহনাজ সুলতানা, খাতুনে জান্নাত, আনোয়ারুল ইসলাম অভি, শামসুল হক, আতাউর রহমান মিলাদ, মাজেদ বিশ্বাস, আহমদ ময়েজ, তুহিন চৌধুরী, মতিউর রহমান সাগর প্রমুখ।
এবারের কবিতা উৎসবে সংহতি মরণোত্তর পদকে সম্মানিত করা হয় কবি ও শিশুতোষ লেখক ডা. কুদরত উল ইসলামকে। বাংলা সাহিত্যে সার্বিক অবদানের জন্য কবি, কথাশিল্পী ও নাট্যকার ডা. মাসুদ আহমেদকে প্রদান করা হয় আজীবন সম্মাননা পদক। বাংলা কবিতায় অবদানের জন্য কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু ও বিলেতে বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য কবি ও ছাড়াকার দিলু নাসেরকে সংহতি সাহিত্য পদকে সম্মানিত করা হয়। এছাড়া আমন্ত্রিত কবিদেরকে গুণীজন ও বিশেষ সম্মাননা পদকে ভূষিত করা হয়। কবি আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ও কবি নির্মলেন্দু গুণ প্রত্যেকের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন।
সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে এবারের কবিতা উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছিল সদ্য প্রয়াত জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে। আবু তাহেরের নির্মাণে হুমায়ূন আহমেদের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত ডকু সিনেমাও প্রদর্শন করা হয়।
আয়োজক সংগঠন ‘সংহতি সাহিত্য পরিষদ’ দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে তাদের নানামাত্রিক সাংস্কৃতিক কর্মকা- পরিচালনা করলেও এরকম নিরেট কবিতা উৎসবের আয়োজন করছে গত ৫ বছর ধরে। এ উৎসবে ইতোপূর্বে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বনামখ্যাত কবি বেলাল চৌধুরী, রফিক আজাদ, মহাদেব সাহা, আসাদ চৌধুরী, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, মুস্তাফিজ শফিসহ আরো অনেকে। এছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসী বাঙালি কবিরা প্রতিবছরই এ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তৃতীয় বাংলার এই কবিতা উৎসবকে রাঙিয়ে যাচ্ছেন।
সংহতি শুধু উৎসব অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি তাদের কর্মকা-। কবিতা ও সাহিত্যকেন্দ্রিক কিছু প্রকাশনা ও জনকল্যাণমুখী কিছু কর্মকা-ও তারা পরিচালনা করে আসছে।
প্রতিবছরই তারা আমন্ত্রিত অতিথিদের যাতায়াত, আবাসন, আপ্যায়ন ব্যয় থেকে শুরু করে তাদেরকে ইংল্যান্ডের দর্শনীয় স্থানগুলো সাধ্যানুযায়ী পরিদর্শন করিয়ে থাকে। এবারও তার কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। ২৮ আগস্ট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে রাত ৯ টায় যাত্রা শুরু করে আমরা লন্ডনের হিথ্রো বিমান বন্দরে পেঁৗছাই ২৯ আগস্ট ভোর সোয়া ছয়টায়। হিথ্রোতে নেমেই সংগঠনের সদস্যদের কুশলী ও দক্ষ পরিচালনা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি। বিমানবন্দর থেকেই তারা আমাদের দেখভালের যাবতীয় দায়িত্ব বুঝে নেন। ট্রেজারার হেলাল উদ্দিনের তত্ত্ববধানে আমাদের আবাসনের ব্যবস্থা করেন ৬৫, পোর্টট্রি স্ট্রিট, পপলারের এক চমৎকার ফ্ল্যাটে। কবি নির্মলেন্দু গুণ ও আমার জন্য একটি পরিপাটি কক্ষ এবং কবি মাসুদ খান ও মারুফ রায়হানের জন্য আর এক মনোরম কক্ষে শুরু হয় কবিতার জন্য আমাদের লন্ডনে বসবাস। ফ্ল্যাটে ওঠার পর থেকেই সংহতিকেন্দ্রিক অসংখ্য কবি ও কবিতাপ্রেমী আমাদেরকে উদ্দেশ করে চলে আসেন আমাদের ফ্ল্যাটে, জমিয়ে তোলেন কবিতার আড্ডা। শাহেদ চৌধুরী, তুহিন চৌধুরী দম্পতির আপ্যায়নের ধরনে সত্যিই মনটা বিগলিত হয়ে যায়। কবিতা পাঠ করেন কখনো কবি নির্মলেন্দু গুণ, কখনো মাসুদ খান, কখনো মারুফ রায়হান, কখনো আমি_ আর মুজিব, বুলবুলসহ ওখানকার কবিরা তো আছেনই। এই করতে করতে খুব নিকটে এসে যায় ২ সেপ্টেম্বর সেই কাঙ্ক্ষিত দিন, সারাদিন কবিতার দিন। লন্ডনের বাংলা কবিতা উৎসব ২০১২।
তবে এই কবিতা উৎসবের বাইরে শুধুই কি ফ্ল্যাটে বসে দিনগণনা? কখনো বুলবুল, কখনো এহিয়া, কখনো হেলাল, কখনো তাহের, কখনো সেলিম, কখনো শাহেদ, কখনো শাহান আমাদেরকে তুলে নিয়ে গেছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনে। কবি নির্মলেন্দু গুণের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ও আগ্রহে উৎসবের পরদিনই রেজোয়ান মারুফের নেতৃত্বে কবি শাহ আলমের গাড়িতে আমরা দেখে এলাম ক্যানসাল গ্রীনের এক সিমেট্রিতে রবীন্দ্রনাথের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সমাধি। ৩১ আগস্ট সেলিমউদ্দিন ও তুহিন চৌধুরী আমাদের নিয়ে গেলেন সেই স্বপ্নের টেমস্ নদীর পারে। টেমসের জল এই প্রথম দেখতে পেরে আবেগে ভিজে এল চোখ। দেখলাম টাওয়ার ব্রিজ, লন্ডন টাওয়ারসহ টেমসের চারপাশের নানান স্থপনা। আর ফাঁকে ফাঁকে চলল স্থানীয় টিভি ও সংবাদপত্রগুলোতে আড্ডা ও কবিতাপাঠ।
আবু তাহের আমাদের নিয়ে গেলেন কেন্টের এক ফলের বাগানে। যেখানে নিয়ম করাই আছে_ বিনামূল্যে ইচ্ছা মতো বাগানের ফল খেতে পারার। অপার উৎসাহে মেমে পড়লাম ফ্রুট পিকিংয়ের কাজে। ঢুকেই চোখে পড়ল পেয়ার গাছে ঝুলে আছে থোকা থোকা অচেনা পেয়ার। ছিঁড়ে খেতেই বুঝতে পারলাম কী সুস্বাদু এই ফল। গাছ থেকে ছিঁড়ে খেলাম, স্ট্রবেরি, রাজবেরি, আপেল, প্লাম্পের মতো নানা জাতের সুমিষ্ট ফল। তাই দুপুরে আর ওই দিনের লাঞ্চ করার উপায় ছিল না।
২ তারিখ উসবের পর থেকেই শুরু হলো আমাদের অন্য আরেক জীবন। কয়েক দিন ঘুরে ঘুরে বন্ধনহীন দেখে নিলাম লন্ডনের কখনো মেঘলা কখনো উজ্জ্বল আর রাতের আলো ঝলমলে দৃশ্যকে। ফাঁকে ফাঁকে চলতে থাকলো বিভিন্ন বাড়িতে নিমন্ত্রণ আর কবিতা পাঠের আড্ডা। ৯ সেপ্টেম্বর আমরা সবাই স্টার্টফোর্ট অন এভন, শেক্সপিয়ারের বাড়িতে যেন শেক্সপিয়ারের নিমন্ত্রণে বেড়াতে এলাম। কী মনোরম এক বাড়িতে বাস করতেন শেক্সপিয়ার! আর তার চারপাশের দৃশ্য আরো কী যে অভাবনীয় সুন্দর! পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এভন নদীটি যেন এই বিখ্যাত কবি-নাট্যকারের মনের মতো করেই সৃষ্টিকর্তা এখানে শায়িত রেখেছেন।
বার্মিংহামের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখান কবি মুজিব ইরম, দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু, চলচ্চিত্র নির্মাতা মকবুল চৌধুরী ও নাট্যকর্মী তারেক চৌধুরী। সুইনডন, অক্সফোর্ড, স্টোনহেঞ্জ, সেইলসবারি, বর্নমথে
ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কোনো দিন মন থেকে মুছে যাবার নয়। এসব অভাবনীয় সুন্দর দর্শনীয় জায়গাগুলো আমাদেরকে ঘুরিয়ে দেখান কথাশিল্পী কামাল রাহমান, ডা. রাফি আহমেদ ও বিজু। ক্যামব্রিজ, ব্রিটিশ লাইব্রেরি, ব্রিটিশ মিউজিয়াম, মিলেনিয়াম ডোম, বাকিংহাম প্যালেসের মতো আরো অসংখ্য দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখান ইকবাল বুলবুল, এহিয়া, নিতু, কাজল, ওয়ালীসহ একঝাঁক তরুণ কবিতাকর্মী।
একটি বিষয় খুব স্পষ্ট মর্মে গেঁথে গেল যে, এখন আর ইংল্যান্ডের প্রবাসী বাঙালিরা তাদের নিজেদেরকে ‘ডায়াস্পরা’ বা ‘অনাবাসী’ বলতে মোটেই রাজি নন। এ ধারণাকে তারা তাদের পূর্বপুরুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান। পূর্বপুরুষেরা আজকের এই ভূমিটি তৈরি করে দিয়েছেন। তাদের বৃটিশবাঙালি সন্তানেরা নিজেদেরকে কখনো ডায়াস্পরা বলে মেনে নেবে না। এখন আর তারা বিক্ষিপ্ত নয়। এখন আর কোনোভাবেই তাদের আলাদা ভাববার অবকাশ নেই। তারা মনে করেন তাদের ভাষা সাহিত্য এখন বৃটিশ মূল ধারারই অংশ। তারা এখন বৃটেনে তাদের অবস্থানকে ‘তৃতীয় বাংলা’ বলে স্বীকার করছে। এই তৃতীয় বাংলাকে তারা বাংলা কবিতার চারণভূমি বলতেও দ্বিধা করছে না। সমগ্র বৃটেনে দীর্ঘকালের বাংলা কবিতা চর্চা এবং দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক কর্মকা- তাদের এ দাবিকে অনেক বেশি যুক্তিপূর্ণ করে তুলেছে।
জীবিকা নির্বাহের সীমাহীন ব্যস্ততা, প্রতিকূল আবহাওয়া ও নাগরিক নির্মমতাকে উপেক্ষা করে ইংল্যান্ডের আকাশে বাতাসে যে কবিতার তুলো উড়তে দেখেছি, তাতে একজন বাংলা কবিতাকর্মী হিসেবে নিজেকে অনেক বেশি ভাগ্যবান মনে করেছি। বাংলা কবিতা উৎসবকে ঘিরে দীর্ঘ ২৪ দিনের বিলেত ভ্রমণ শেষে উইলিয়াম শেক্সপিয়ার, ম্যাথু আর্নল্ড, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, জন মিল্টন, স্যামুয়েল কোলরিজ, জন ডান, হ্যারল্ড পিন্টার প্রমুখ মহান কবিদের দেশ থেকে আরো বেশি আশাবাদী হয়ে দেশে ফিরেছি। কবিতার জয় অনিবার্য।

 


সংহতির উদ্যোগে বাংলা কবিতা উৎসব ২০১২ অনুষ্ঠিত


সংহতি তৃতীয়বাংলায় বাংলা সাহিত্যের জন্য সমন্বয় প্রত্যয়ের যে সিড়ি তৈরী করেছে তার পিছনে কাজ করছে সংহতি এবং তৃতীয়বাংলার কবিদের ত্যাগনিষ্ঠ নিগুঢ় তাগিদ। বিশেষ করে শিল্প-সৌন্দর্যে বিকশিত কবিদের সরবচারণক্ষেত্র হিসাবে প্রতিয়মান বাংলা কবিতা উৎসব। জীবনবোধের স্বভাবজাত সংকটের বাহিরে সৃষ্টিময়তার অনিবার্য স্থাপত্য হিসাবে সংহতি বাংলা কবিতা উৎসবকে আমরা দ্বন্দ্বহীন, অবিভক্ত এবং ঐক্যবোধের বিরল দৃষ্টান্ত হিসাবে কবিও কবিতার মুক্তচিন্তার অপারাজেয় সংহতি হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে হলো সংহতি আয়োজিত ৪র্থ বাংলা কবিতা উৎসব ২০১২। গত ২ সেপ্টেম্বর পূর্ব লন্ডনের বাংলা টাউন অধ্যুসিত এলাকা জুড়ে মেতে উঠেছিল কবিও সাংস্কৃতিক কর্মিদের আনন্দ উৎসব। কবিতাকে নিয়ে এরকম উৎসব হতে পারে সেটা সংহতি আয়োজিত কবিতা উৎসবে অংশগ্রহন না করলে বুঝা যাবেনা। হেমন্তের সকালটা যেন রোদ্রজ্জ্বল আলোতে ঝলসে ওঠে। পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে থেকে জড়ো হতে থাকেন বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপ ও ব্রিটেনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাব্যপ্রেমী কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।  বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন বরণ্য কবি নির্মলেন্দু গুণ, আরো এসেছেন কবি সৈয়দ আল ফারুক, কবি মারূফ রায়হান, কবি ওবায়েদ আকাশ, কবি তাপস কর্মকার, কানাডা থেকে উপস্থিত হয়েছিলেন কবি মাসুদ খান ও জার্মানী থেকে কবি নাজমুন নেছা পিয়ারী।  ব্যানার, ফেস্টুন হাতে উপস্থিত ছিলেন  সংহতির কবি ও কর্মকর্তাবৃন্দ। উপস্থিত হয়েছিলেন তৃতীয়বাংলার বর্ষিয়ান কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী, ইংরেজ কবি স্টিফেন ওয়াটস  ও  টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুতফুর রহমান।

কোলাহল মুখর আলতাব আলী পার্কের সবুজ উদ্যান থেকে আকাশে রঙিন বেলুন আর ফেস্টুন উড়িয়ে কবিতা উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী পর্বে সংক্তিপ্ত বক্তব্য রাখেন সংহতির সভাপিত ইকবাল হোসেন বুলবুল, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি ফারুক আহমেদ রনি,  কবি ও সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী , কবি নির্মলেন্দু গুণ, ইংরেজ কবি স্টিফেন ওয়াটস, টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুতফুর রহমান, কাউন্সিলার গোলাম রব্বানি, কবি মাসুদ খান, কবি সৈয়দ আল ফারুক, কবি মারুফ রায়হান, কবি ওবায়েদ আকাশ ও বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার রাশেদ চৌধুরী।  আবদুল গাফফার চৌধুরী ব্রিটিশ মূলস্রোতের কবিদের কাব্যচর্চা ও বাঙালি অনাবাসি কবিদের কাব্যচর্চার মেলবন্ধন রচনা করা এবং নতুন কবিদের কবিতা অনুবাদের মাধ্যমে কাব্যচর্চার কর্মচেষ্টা আদান-প্রদানের জন্য নতুন কবিদের প্রতি আহ্বান জানান। কবি নির্মলেন্দু গুণ যুক্তরাজ্যে বাঙালিদের কাব্যচর্চার সৃষ্টিশীল স্পৃহা দেখে অভিভূত হন কবি আনোয়রুল ইসলাম অভি, কবি শামীম শাহান, সৈয়দা তুহিন মোহাম্মদ, হেলাল উদ্দিন ও  মিতা তাহেরের নির্দেশনা ও তত্বাবধানে শুরু হয় বর্ণাঢ্য রেলি। আলতাব আলী পার্ক থেকে ব্রীকলেন অর্থাৎ বাংলা টাউনের বিভিন্ন রাস্তা হয়ে সারি সারি লাইন বেধে গান আর কবিতায় মুখরিত হয়ে র‍্লি গিয়ে পৌছে ব্রাডি আর্টস সেন্টারে।  তারপর দুপুরের পানাহারের আয়োজনের মধ্যোদিয়ে চলে কবিদের মধ্যে প্রাঞ্জল আড্ডা আর ক্যামেরার ফ্লাশে ঝলসানো ছবি তোলার পর্ব।

তারপর নির্ধারিত সময় ২টায় শুরু হয় কবিতা উৎসবের মুল অনুষ্ঠান। থিয়েটার হলের ভেতরে ঢুকে চমকে উঠতে হয়েছে সবাইকে, চমৎকার আলপনা আর নান্দনিক শিল্পকর্মে সাজানো স্টেজের কারুকাজ। বাড়ির আঙিনায় ভোরের সূর্যোদয়ের দৃশ্য মিহিন আলোর ভেতর দিয়ে ভেতর বাড়ি থেকে শোনা যায় নাটকীয় সংলাপ- ‘ভোর হলো, কবিবন্ধু জাগোরে..’ পর্দার পেছন থেকে বাড়ির সদর দরজা খোলে বেরিয়ে এলেন মাইক্রোফোন হাতে উপস্থাপকবৃন্দ। সংহতির তিন সদস্য- রেজুয়ান মারুফ, মুনিরা পারভিন ও সৈয়দা তুহিন। অনুষ্ঠানের  উদ্ধোধন হয় সংহতির শিল্পী মিতা তাহেরের তত্ত্বাবধানে উদ্ধোধনী সঙ্গীতের মাধ্যমে অংশ নেয় সংহতির শিশু-কিশোর শিল্পীরা। এরপর অতিথিদের বরণ করে নেয়া হয়। অতিথির আসন গ্রহণ করেন আবদুল গাফফার চৌধুরী, কবি নির্মলেন্দু গুণ, কবি স্টিফেন ওয়াটস, কবি মাসুদ খান, কবি নাজমুন নেছা পিয়ারী, কবি মারুফ রায়হান, কবি ওবায়েদ আকাশ ও কবি তাপস কর্মকার। সংহতির সাধারণ সম্পাদক সামসুল হক এহিয়ার স্বাগত বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে পরপর অতিথি কবিরা আলোচনা ও স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন। তাছাড়াও বক্তব্যে রাখেন বাংলাদেশের হাই কমিশনার ড. সাইদুর রহমান খান ও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের। তারপর স্বরচিত কবিতা পাঠে অংশ নেন বিলেতের কবিদের মধ্যে কবি কাদের মাহমুদ, কবি মাসুদ আহমদ, কবি শামীম আজাদ, কবি নূরুজ্জামান মনি, কবি গোলাম কবির, কবি আতাউর রহমান মিলাদ, কবি মুজিবুল হক মনি,  কবি মাসুক ইবনে আনিস, কবি আহমদ ময়েজ, কবি মুজিব ইরম, কবি অলি রহমান,  কবি মাজেদ বিশ্বাস, কবি লোকমান আহমদ,  কবি কাজল রশিদ, কবি শাহনাজ সুলতানা, কবি শাহ শামীম আহমদ, কবি আবদুল কাইয়ূম, কবি মিলটন রহমান, কবি কবি শামীম শাহান, কবি সুফিয়া নুরুস,  কবি শাহ আলম,  শামসুল হক এহিয়া ও সহ প্রবীন ও নবীন কবিরা। আর আবৃতিতে অংশ গ্রহণ করেন বিলেতের আবৃতিকারদের মধ্যে ড. আনোয়ারুল হক, সমর সাহা, উর্মি মাজহার, মুনিরা পারভিন, সালাউদ্দিন সাহীন সহ অনেকেই বিলেতের কবিদের কবিতা আবৃতি করেন।

শতাধিক কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠ, কবিতা আবৃত্তি, বৃন্দ আবৃতি, জারীগান, কাব্যনৃত্যের পর অনুষ্ঠিত হয় পদক দান অনুষ্ঠান। এবার অনাবাসী কবি ও অতিথি কবিদের মধ্যে সংহতি পদক পেয়েছেন কবি কুদরত উল ইসলাম (মরণোত্তর), আজীবন সম্মাননা কবি মাসুদ আহমেদ, কবিতায় কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু, বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্যে কবি ও ছড়াকার দিলু নাসের, গুণীজন সম্মাননা পদক কবি নির্মলেন্দু গুণ ও মাসুদ খান। বিশেষ সম্মাননা পদক গ্রহণ করেন কবি মারুফ রায়হান ও কবি ওবায়েদ আকাশ।



…………………………………………………………………………………………………………………………………………………..


Shanghati poetry festival 2012


Shanghati Literary Society organises a poetry festival every year aiming to promote Bengali literature and culture and its prospective interests within the most challenging multicultural society in UK. Bengali Poetry Festival is not just about the abstract of festival but it is also a reflection of splendor which celebrates the diversity of culture and creates a platform for participants with poetic insight into their unique world of literature. The event will offer an opportunity for poets of all levels of experience to share their writing in front of the most prestigious & renowned poets.

Every year Shanghati invites some of the very renowned Poets/Journalists from Bangladesh who play an important role in promoting the culture in Bangladesh as well as other countries in the world. This year we have the pleasure of inviting Poet Nirmalendu Goon to be our main guest poet from Bangladesh. Amongst the other participants/guests we have confirmation from Poet Maruf Reyhan from Bangladesh, Poet Masud Khan from Canada, Writer & Journalist Abdul Gaffar Chowdhury and Poet Ketaki Kushari Dyson of United Kingdom. The festival will also be attended and participated by many local and international poet and writers including poets from the European region.


বাংলা কবিতা উৎসব ও সংহতি আয়োজিত মত বিনিময় সভা


সংহতি আয়োজিত ৪র্থ বাংলা কবিতা উৎসব উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে কবি, লেখক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এক মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় আগামী ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য বাংলা কবিতা উৎসব নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। বহির্বিশ্বে অর্থাৎ বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাহিরে সর্বপ্রথম ২০০৮ সাল থেকে বাংলা কবিতা উৎসবের আয়োজন করে আসছে তৃতীয়বাংলার দীর্ঘদিনের পুরনো সাহিত্য সংগঠন সংহতি। সংহতি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৯ সালে এবং গত ২৩ বছর থেকে সংহতি বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতির আন্দোলনে বরাবরই সরোব ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলা সাহিত্যের কবি, সাহিত্যিকরা আজ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বসেও তাদের মৌলিক কর্ম অব্যাহত রেখে চলেছেন। সমৃদ্ধ করছেন বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন অঙ্গন। তেমনি বিলেতের বা তৃতীয়বাংলার কবি সাহিত্যিকদের অবদান বলতে গেলে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছেন। কিন্তু তাঁদের মূল্যায়নের জন্য সর্বপ্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করে সংহতি। সংহতি কবিতা উৎসবের পাশাপাশি কবিতা ও বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয়ে লেখক কবিদের মুল্যায়নের লক্ষে পুরুষ্কৃত করে আসছে কবি ও সাহিত্যিকদের। বাংলা কবিতা উৎসবকে সামনে রেখে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উপস্থিত হয়ে থাকেন কবি সাহিত্যিকরা। সংহতি বরাবরই নবীন ও প্রবীণ কবিদের সমন্বয়ে যে সংযোগ ফ্লাটফর্ম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে তাহা বাংলা সাহিত্যের সর্বোপরি ঈর্ষীয় অবস্থান বলেই বিবেচিত। এ পর্যন্ত সংহতি আয়োজিত কবিতা উৎসবে বাংলাদেশ থেকে যে সকল নবীন ও প্রবীণ কবি উৎসবে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন তাঁদের অনেকের মধ্যে কবি বেলাল চৌধুরী, কবি মুস্তাফিজ শফি, কবি রফিক আজাদ, কবি সৈয়দ আল ফারুক, কবি আসাদ চৌধুরী, কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজি, কবি মহাদেব সাহা, কবি মুহিত চৌধুরী, তাছাড়াও ইউরোপ, আমেরিকা থেকে যোগ দিয়েছেন নাজমুন নেসা পিয়ারী, আমিরুল আরহাম সহ অসংখ্য কবি সাহিত্যিকরা। তৃতীয়বাংলার জ্যৈষ্ঠ কবিদের মধ্যে বরাবরই উপস্থিত কবি, লেখক সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী, কবি কেতকী কুসারী ডাইসন, কবি মাসুদ আহমেদ, কবি কাদের মাহমুদ, কবি সালেহা চৌধুরী, কবি শামীম আজাদ সহ বিলেতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কবি সাহিত্যিক। এবারে সংহতি বাংলা কবিতা উৎসব ২০১২ উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে উপস্থিত থাকবেন বাংলা সাহিত্যের শক্তিমান বরেণ্যে কবি নির্মলেন্দু গুণ, কবি মারুফ রায়হান, কবি ওবায়েদ আকাশ। কানাডা থেকে যোগ দেবেন সব্যসাচী কবি মাসুদ খান সহ অনেকে। গতকালের মত বিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বরেণ্যে ব্যক্তিত্ব কবি, লেখক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী, কবি শামীম আজাদ, কবি গোলাম কবির, কবি ফয়জুর রহমান, লেখক সাংবাদিক ইসহাক কাজল, সাংবাদিক সাহাব উদ্দিন বেলাল, কবি ও সাংবাদিক হামিদ মোহাম্মদ, সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী, লেখক ও সাংবাদিক কবি মজিবুল হক মনি, কবি আতাউর রহমান মিলাদ, কবি মাশুক ইবনে আনিস, কবি ও ছড়াকার দিলু নাসের, কবি আহমদ ময়েয, লেখক ও গবেষক ফারুক আহমদ, কবি অলি রহমান, কবি কাজল রশিদ, বাংলাদেশ থেকে আগত কবি ও সাংবাদিক মুস্তাফিজ শফি, কবি লোকমান আহমদ, কবি শাহনাজ সুলতানা, কবি সৈয়দ রুম্মান, লেখক ও সাংস্কৃতিককর্মি নোমান আহমদ, এবং সংহতি পরিবারের সদস্যবৃন্দ যথাক্রমে সংহতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি ফারুক আহমেদ রনি, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নাট্যকার আবু তাহের, প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি সেলিম উদ্দিন, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কবি আব্দুল মুনিম ক্যারল জাহেদী, সৈয়দা তুহিন, সৈয়দা নাজমিন, আইটি বিষয়ক সম্পাদক নোমান চৌধুরী এবং বর্তমান সভাপতি কবি ইকবাল হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক কবি শামসুল হক এহিয়া, কোষাধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন, সহ কোষাধ্যক্ষ নজরুল আলম, কবি মঞ্জুলিকা জামালী, কবি শামীম শাহান,  প্রচার সম্পাদক লেখক ও কথাশিল্পী সাঈম চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আমিনা আলী, কবি শাহ আলম, কবি রেজুয়ান মারুফ, সহ সাধারণ সম্পাদক কবি শামসুল জাকি স্বপন, শিক্ষা সম্পাদক আবৃতিকার মুনিরা পারভিন। তাছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টিভি সংবাদ পাঠক ও আবৃতিকার সালাউদ্দিন শাহীন, সাংবাদিক আব্দুল কাদির মুরাদ এবং সুরমা, জনমত, পত্রিকা, বাংলা টাইস্,নতুনদিন, বাংলা পোষ্ট, ইউরো বাংলা, বাংলা মিরর, বেতার বাংলা, চ্যানেল এস, বাংলা টিভি, এটিএন বাংলা, চ্যানেল নাইন, চ্যানেল আই সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। অনুষ্ঠানে আগামী কবিতা উৎসবকে সার্থক ও গতিশীল করে তুলতে সকলের সার্বিক সহযোগীতার আহবান করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল ইফতারির আয়োজন ও মুক্ত আড্ডা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s