কবিতা উৎসব ২০১১

সংহতি আয়োজিত বাংলা কবিতা উৎসবের সফল সমাপ্তি

নানা আয়োজন আর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুদিন ব্যাপী সংহতি বাংলা কবিতা উৎসবের সমাপ্তি হলো। গত ৩ ও ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় সংহতি আয়োজিত তৃতীয় বাংলা কবিতা উৎসব। উৎসবে বাংলাদেশ থেকে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কবি মহাদেব সাহা। তাছাড়াও ইউরোপ আমেরিকা ও বাংলাদেশ থেকে অনেক কবিদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাহিরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সংহতি-ই সর্বপ্রথম বাংলা কবিতা উৎসবের আয়োজন করে ২০০৮ সালে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারেও অনুষ্ঠিত হয় বাংলা কবিতা উৎসব। স্বরচিত কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, কাব্যনৃত্য, কাব্যনাট্য সঙ্গীত ও জারী গানের আয়োজন আর বিপুল সংখ্যক কবি-সাহিত্যিক ও সাহিত্য প্রেমীদের উপস্থিতিতে সমাপ্ত হলো সংহতি সাহিত্য পরিষদ আয়োজিত ’বাংলা কবিতা উৎসব। ৩ জুলাই রোববার পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নানান রঙের বেলুন ফ্যাস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন লেখক কলামিস্ট আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ও বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত অতিথি বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান কবি মহাদেব সাহা ও সংহতি’র প্রতিষ্ঠিতা সভাপতি কবি ফারুক আহমদ রনি। উদ্বোধন ঘোষণার পর বিভিন্ন শহর এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে উৎসবে যোগ দেয়া কবি সাহিত্যিকদের নিয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু হলে সবার মুখে উচ্চারিত হয় কবিতার জয়গান। কবিতায় কবিতায় সাজানো প্ল্যাকার্ড আর ব্যানার হাতে বাংলা টাউনের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে র‌্যালির সমাপ্তি হয় ব্র্যাডি আর্ট সেন্টারে। কবিগুরু রবীন্দ্রাথ ঠাকুরের কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে জনপ্রিয় উপস্থাপক রেজোয়ান মারুফ ও মুনিরা পারভিনের উপস্থাপনায় বিকেল তিনটা থেকে শুরু হয় উৎসবের মূল পর্ব। বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী মিতা তাহের সংহতির শিশু শিল্পীদের নিয়ে পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথের গান ’আগুনের পরশমনি’ এবং ‘আলো আমার আলো’ গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে উদীচী’র শিল্পীরা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত বার্ষিকী উপলক্ষে উৎসর্গিত এবারের কবিতা উৎসবে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট কবি মহাদেব সাহা বলেন, বাংলাদেশের বাইরে বাংলা ভাষাভাষী কবি-সাহিত্যিকদের নিয়ে এমন একটি উৎসব দেখে আমি অভিভূত। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সাথে সাথে নিজের ভাষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি পৃথিবীর কাছে তুলে ধরতে সংহতির এই আয়োজন সাধুবাদ ও প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। প্রবাসে এতো ব্যস্ততার মধ্যে শুধু কবিতার জন্য একটি দিন, শুধু কবিতার ভালোবাসায় এতো লোকের সমাগম আমাকে মুগ্ধ করেছে। এত সুন্দর আয়োজন, উদ্যোক্তাদের আন্তরিকতা আর বিলেতে কবি-সাহিত্যিক ও সাহিত্য চর্চা দেখে একজন বাংলাভাষী কবি হিসেবে আমি আনন্দিত, আশাবাদী ও গর্বিত। বিলেতে পূর্বে আসার স্মৃতি, বাংলা কবিতা, কবিতা উৎসব এবং এবারের  সফরসহ নানান প্রসঙ্গ টেনে বক্তৃতা শেষে কবি পড়ে শুনান নিজের কবিতা । হল ভর্তি উপস্থিতি তখন মগ্ন হয়ে শুনেন তাঁর কবিতা। আমন্ত্রিত কবি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক কলামিস্ট আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী সংহতির এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এ উৎসব কে বলা যায় বাংলা কবিতার ত্রিবেণী সঙ্গম। ঢাকা ও কলকাতার সঙ্গে বিলেতসহ ইউরোপ, আমেরিকা ও অন্যান্য দেশের বাংলা কবিতার প্রাণ প্রবাহে এখানে এক ধরনের মোহনার সৃষ্টি হচ্ছে। যার গতি ক্রমশই বেগবান হবে বলে আমি আশাবাদী। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও কবিতা পাঠ করেন কবি ও নাট্যকার মাসুদ আহমেদ, কথা সাহিত্যিক সালেহা চৌধুরী আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ থেকে আগত কবি মুহিত চৌধুরী, লেখক সাংবাদিক উর্মি রহমান ও সাগর চৌধুরী। কয়েকটি পর্বে বিন্যস্ত অনুষ্ঠানে বিলেত, আমেরিকা, ফ্রান্স, বাংলাদেশ, ভারত হতে আগত কবিদের মধ্যে প্রথম দিনের কবিতা উৎসবে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি কাদের মাহমুদ, মাসুদ আহমেদ, সালেহা চৌধুরী, শামীম আজাদ, ফেরদৌস রহমান, সৈয়দা মঞ্জু মজিদ, মাশুক ইবনে আনিস, সংহতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফারুক আহমেদ রনি, আবু মকসুদ, দেলওয়ার হোসেন মঞ্জু, মিলটন রাহমান,  কাজল রশিদ, দিলু নাসের, মঞ্জুরুল আজিম পলাশ, লোকমান আহমদ,  ওয়ালি মাহমুদ, অলি রহমান, মঞ্জুলিকা জামালী, শাহনাজ সুলতানা, শাহ শামীম আহমদ, মুজিব ইরম, খাতুনে জান্নাত, আলী আসগর, সৈয়দ রুম্মান, নজরুল ইসলাম নাজ, জামিল সুলতান, সুফিয়া নুরুজ, সাইফ উদ্দিন আহমদ বাবর, সেবুল আহমদ, নজরুল ইসলাম হাবিবী, সাজেদা সৈয়দ, মাহফুজা তালুকদার সহ প্রায় ৭০ কবি স্বরচিত কবিতা পাঠে অংশগ্রহণ করেন। আবৃত্তি পর্বে দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে পুনশ্চ:, এবং কণ্ঠপ্রবাস। একক আবৃত্তি করেন, প্রপা, নির্ঝর, তপন, লুৎফুন নাহার বেবি, উর্মি মাযহার, সৈয়দ আফসার উদ্দিন, ড. জাকি রেজোয়ানা আনোয়ার। কাব্যনৃত্য পরিবেশন করেন রিয়ানা তৃনা। রবীন্দ্রনাথের শেষের কবিতার অংশ বিশেষ নিয়ে কাব্যালেখ্য পরিবেশন করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন ইভা রহমান, শাহিনূর হিরক, মিতা তাহের এবং নৃত্য পরিবেশন করে সত্যেন সেন স্কুল অব পার্ফর্মিং আটস ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর হাফা ও রাফা এবং শম্পা। সংহতি সাহিত্য পরিষদ প্রতিবারের মত এবারও সাহিত্য চর্চায় বিশেষ অবদানের জন্য সংহতি পদক এবং গুণীজন পদক প্রদান করেছে। কবিতায় সংহতি সাহিত্য পদক ২০১১ দেয়া হয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি শামীম আজাদকে। আজীবন সম্মাননা পদক প্রদান করা হয় লেখক, সাংবাদিক কাদের মাহমুদ কে। মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয় সদ্য প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হিরণ্ময় ভট্টাচার্যকে। গুণীজন পদক প্রদান করা হয় বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান কবি মহাদেব সাহাকে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক এহিয়ার স্বাগত বক্তব্য এবং শামীম শাহানের শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় দু’দিন ব্যাপী কবিতা উৎসবের প্রথম দিনের সফল সমাপ্তি হয় সংহতির সভাপতি ইকবাল হোসেন বুলবুলের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। দ্বিতীয় দিনের কবিতা উৎসব অনুষ্ঠিত হয় টেমস্ নদীতে নৌ-বিহারের মাধ্যমে। বিলেতের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত প্রায় দুই শতাধিক কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের উপস্থিতিতে এক আনন্দ উৎসবে আন্দোলিত হয়ে ওঠে টেমস নদীর উত্তাল জল। কবিতা, গান, গল্প আর আড্ডায় বয়ে নিয়ে এসেছির এক নান্দনিক পরিবেশ। কবিতা পাঠ, আবৃতি আর সঙ্গীতের ফাঁকে ফাঁকে খাবার পরিবেশনার মাধ্যমে গ্রীষ্মের দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত চলে কবিতা উৎসবের দ্বিতীয় দিনের আয়োজন।

 261602_2177567476226_1158057978_32610280_3302634_n


 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s