কবিতা উৎসব ২০১৪

  


বাংলা কবিতা উৎসব ২০১৪ উপলক্ষে বিলেতের কবিসাহিত্যিকদের সাথে সংহতি’র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

 সংহতি সাহিত্য পরিষদ আয়োজিত বাংলা কবিতা উৎসব ২০১৪ উপলক্ষে বিলেতের কবি ,সাহিত্যিক, সাংবাদিক ,সংগঠক,সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের মন্টিফিউরি সেন্টারে সংগঠনের সভাপতি কবি ইকবাল হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্টানে বিলেতের উল্লেখযোগ্য কবি,সাহিত্যিক, সংস্কৃতকর্মী ,সংগঠক উপস্থিত থেকে কবিতা উৎসবকে সফল করতে তাদের নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করেন। সংহতির সাধারণ সম্পাদক কবি সামসুল হক এহিয়ার স্বাগত বক্তব্যে  অনুষ্টিতব্য কবিতা উৎসবের সম্ভাব্য কর্মকান্ডের বিবরণ দিয়ে উপস্থিত সবাইকে তাদের মুল্যবান মতামত প্রদানের আহবান জানান। সংহতির দীর্ঘ ২৬ বছরের নিরবিচ্ছিন্ন কর্মকান্ড নিয়ে আলোকপাত করেন সংগঠনের উপদেষ্টা নাট্যকার আবু তাহের ও  সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল, সভাপতি ইকবাল হোসেন বুলবুল এবং ট্রেজারার  কবি তুহীন চৌধুরী। মতবিনিময় সভায়- কবিতা উৎসবকে প্রাণবন্ত করতে  উপস্থিত সকলে তাদের নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় গুলো হচ্ছে- স্বরচিত কবিতা পাঠ অংশে অনুষ্টানের  সার্বিক মান ও সময়কে বিবেচনায় রাখা, বিলেতের কবিদের কবিতা আবৃত্তি প্রসঙ্গ,বিলেতের বাংলা সাহিত্য ও সাহিত্য নির্ভর মৌলিক  সার্বিক কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা, বই মেলা, সংগঠকদের মৌলিক পরিবেশনা,আমন্ত্রিত অতিথিদের আলোচনা ও পরিবেশনা প্রসঙ্গ এবং সংহতির স্মারক প্রকাশনা ইত্যাদি। আলোচনায় অংশগ্রহন করেন- লেখক সাংবাদিক ইসহাক কাজল,কবি সাংবাদিক আহমদ ময়েজ,কবি মজিবুল হক মনি,সাংবাদিক আব্দুল কাদির মুরাদ,কবি আবু মকসুদ, কবি সাইফুদ্দিন আহমদ বাবর,কবি নজরুল ইসলাম,কবি গোলাম কিবরিয়া,কবি সৈয়দ রুম্মান,কবি এম মোশাহিদ খান, কবি সাগর রহমান,কবি উদয় শংকর দুর্জয়,কবি আরাফাত তানিম, গীতিকার আহমেদ হোসেন বাবলু,কবি জামিল সুলতান,উপস্থাপক সামসুল জাকি স্বপন, কবি এ কে এম আব্দুল্লাহ, কবি শাহ আলম,সাংস্কৃতিক কর্মী সৈয়দা নাজমিন,সুফিয়া জামিন নুরুজ, জাকির হোসেন, কবি মোহাম্মদ মুহীত,লেখক আশিষ মিত্রপ্রমুখ।

প্রানবন্ত অনুষ্টানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাহিত্য সম্পাদক কবি আনোয়ারুল ইসলাম অভি।  উল্লেখ্য সংহতি সাহিত্য পরিষদ  ২০০৮ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে বিলেতে কবিতা উৎসব করে আসছে। আগামী ১৯ অক্টোবর রবিবার দিনব্যাপী  বাংলা কবিতা উৎসব ২০১৪ পূর্ব লন্ডনের ব্রার্ডি আর্টস সেন্টারে নান্দনিক ও বিশাল কলোবরে অনুষ্টিত হবে। দুই পর্বের অনুষ্টানের শুভ উদ্বোধন এবং উৎসব এর প্রথম পর্ব শুরু হবে আলতাব আলী পার্ক থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালীর মাধ্যমে। অনুষ্টানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে থাকবেন- বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হেলাল হাফিজ এবং বিশিষ্ট আবৃত্তিকার শিমুল মুস্তাফা। এছাড়ারও আশির দশকের কবি ফজলুল হক ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের বাংলাভাষি কবি সাহিত্যিক ও কবিতাপ্রেমীরা উপস্থিত থাকবেন বলে সংহতির পক্ষ থেকে জোর আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। বরাবরের মতো সংহতি এবারও সংহতি কবি পদক,সাহিত্য পদক, বিশেষ সম্মাননা পদক প্রদান করবে।অনুষ্টান সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানতে সংগঠনের সাহিত্য সম্পাদক কবি আনোয়ারুল ইসলাম অভির সাথে ০৭৯০৪০৭১০৯১ নাম্বারে ও shanghati@yahoo.co.uk যোগাযোগ করতে  সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

__________________________________________________________________

ধ্যানজ্ঞ প্রার্থনাসভা

মিলটন রহমান

কবিতার মত মৌল শিল্প নিয়ে কাজ করবার জন্য একটি নন্দনতাত্বিক ভূমির দরকার হয়। যেখানে প্রাকৃতিক সুরম্য সাঁকো তৈরী থাকবে । থাকবে ফুল ও পাখির পরাগায়ন রহস্যের মত মোহবিস্তারি ধ্যান। সেখানে গ্রীসের পৌরাণিক নারী থাকাও বাঞ্চনীয়। পোক্ত আসন থাকতে পারে ফ্রয়েডীয় রতিবিশ্ব কিংবা এলিয়টীয় রোমান্টিকতার। এসবের মধ্যে ঠিক ফাঁক গলে বসে থাকা শুন্যতা, হাঁহাঁকার কিংবা নি:সঙ্গতাও থাকা চাই। কেননা ধ্যানের অধীক আলো-অন্ধকার আঁকড়ে না থাকলে কবিতা পাতাবাহার হয় না। বিলেতে বাংলা কবিতা সাহিত্যের এমন একটি ভ’মি আছে কি নেই সেই প্রশ্ন অবান্তর। এইটুকু বলা যায় যারা এখানে কবিতাকর্ম করেন প্রত্যেকের একটি স্বর্ণরেখা আছে। ওই রেখাই কবিকে পথ দেখায়। মাটি ছেড়ে যারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসে বাংলাসাহিত্য চর্চা করছেন তারা জানেন বিলেতে একটি নন্দনভূমি আছে। বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন একটি ভ’মিতে থাকলেও তারা মূলধারার সাহিত্যকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। ইদানিংকালে অনেকেই দেশে-বিলেতে-দেশে বসেই সাহিত্যকর্ম করছেন। সম্ভবত মূলের সাথে অবিচ্ছেধ্য সম্পর্কের কারণেই এখানে দেশের মতই ব্যস্ত সময় কাটে কবি-সাহিত্যিকদের। প্রায় বছরজুড়ে কবিতা কিংবা সাহিত্য নির্ভর আয়োজনে আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। আমি বিলেতে থিতু হয়েছি ২০০৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে। যেদিন ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসিতে ঝুলানো হলো। সময়টা বেশ কদর্যই ছিলো। তবে আমার পরবর্তী সময় তেমন ঘোলাটে হয়নি। সম্ভবত ২০০৭ কি ২০০৮ সালেই প্রথম আমি সংহতি সাহিত্য পরিষদের কবিতা উৎসবে যোগ দেয়ার সুযোগ পাই। ক্যুইনমেরি কলেজে সেবার কবিতা পাঠ করেছিলাম। সংহতির যাত্রার মাঝামাঝি সময়ে আমি সামান্য সহযাত্রী হতে পেরে প্রীত হয়েছিলাম। কারণ সেদিন সংহতির আয়োজন দেখে আমি ভুলে গিয়েছিলাম দেশে ফেলে আসা সব আয়োজনের কথা। কবিতা নিয়ে দেশের বাইরে পূর্ণঙ্গ অনুষ্ঠান আয়োজন, মাটিছাড়া আমাকে নতুন প্রনোদনায় উজ্জিবিত করেছিলো। কবি ফারুক আহমদ রনি, নাট্যকার আবু তাহের, কবি ইকবাল হোসেন বুলবুলসহ অনেকের সাথে আমার পরিচয় সংহতি সাহিত্য পরিষদের সুবাধে। দেখেছি একদল উদ্দমী কবিতাকর্মী নিরন্তর কাজ করেছেন প্রতিবছর কবিতা উৎসব আয়োজনে। কবিতা উৎসবে যোগ দিতে একে একে এসেছেন কবি আসাদ চৌধুরী, কবি বেলাল আহমেদ, কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী, কবি মহাদেব সাহা। এবার আসছেন কবি নির্মলেন্দু গুন, কবি মাসুদ খান, কবি মারুফ রায়হান, তরুন কবি ওবায়েদ আকাশ। আরো কবিরা এ উৎসবে যোগ দেবেন বলে শুনতে পেয়েছি।সংহতি প্রতি বছর কবিতা উৎসবের আয়োজন করছে আর এ উৎসবের উত্তরণ ঘটছে। এ উৎসব এখন মর্যাদার একটি বিস্তৃর্ণ মাঠের অধিকারী। যেখানে শোভা পাচ্ছে সব প্রিয় কবিদের নাম। যাদের সংহতি সাহিত্য পদক দিয়ে সম্মাণিত করেছে। সংহতি কবিতা উৎসব এখন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি সুবর্ণ পাতার নাম। বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলন থেকে শুরু করে আজ অবধি কোন সাহিত্য সম্মেলন বা আন্দোলনের নাম নিতে গেলে সংহতি অবধারিতভাবে পর্যায়ক্রমে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। দেশের বাইরে সম্ভবত এটিই এককভাবে কবিতা নিয়ে আয়োজিত বড় উৎসব। পত্র-পত্রিকায় প্রায় বছরজুড়ে আলোচনা থেকে বুঝা যায় এ উৎসবের বিস্তৃতি বিশ্বব্যাপি বিস্তৃত হয়েছে। কানাডা থেকে কবি মাসুদ খান আসছেন। এছাড়া অন্যান্য দেশ থেকেও আমাদের কবিরা আসবেন শুনেছি। অন্য দেশে অবস্থানরত কবিদের উৎসবমুখী করা সম্ভব হয়েছে এর গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাপ্তবয়স্কতার কারণে। তাই বলতে এবং ভাবতে ভালো লাগে সংহতি আয়োজিত কবিতা উৎসব একদিন আরো বড় হবে। বাংলা কবিতার বিশ্ব প্রতিনিধত্ব করবে।সংগঠন-আড্ডা-কবিতা। এভাবে একটি যুথবদ্ধ খামার থেকে সৃষ্টি ও এর রসদ তৈরী হয়। বিলেতে সংহতি এ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে গেছে এবং যাচ্ছে। ফলে এখানে তৈরী হয়েছে কিছু ধ্যানি মানুষ। যারা কেবল বাণী প্রার্থণা করেন। তৈরী করেন এক একটি সুরম্য উদ্যান। এটা এক ধরণের উম্মাদনা। যা না হলে বাক্য ও চিন্তারা অনিশ্চয়তার পাকে পড়ে। এবার উৎসবে এমনি তিন ধ্যানি আসছেন। ‘আমার কন্ঠস্বর‘ পাঠ করলে বুঝতে অসুবিধা হয় না কবি নির্মলেন্দু গুন কেমন ধ্যানি ছিলেন এবং কিভাবে কবি হয়ে উঠেছেন। গুন দা‘কে মনে হলে কবি আবুল হাসানের কথাও মনে পড়ে। আত্মার দুই বন্ধু ঢাকার রাস্তায় কিভাবে প্রেম ও আগ্নুৎপাতের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। কবি আবুল হাসান ঝিনুক কে নিরবে সয়ে মুক্তা ফলানোর কথা বলে চলে গেলেও গুন দা মুক্তা ফলাচ্ছেন এখনো। একইভাবে সংহতিও মুক্তার অধীকারী এখন। কবি মারুফ রায়হান এবং আমি হাতে ও গলায় ঝিনুকের মালা পড়ে কক্সবাজার সৈকতে জল ও জোৎ¯œার সাথে মিশে গিয়েছিলাম। তখন দেখেছিলাম কবির উন্মাদনা। যা না হলে কবি হয়ে ওঠা অসম্ভব। তরুণ কবি ওবায়েদ আকাশ ধ্যানের চূঁড়ায় থাকেন বলে ‘শালুক‘ এর মত একটি ভারী ছোট কাগজ সম্পাদনা করেন। এবার কবিতা উৎসবে এঁদের উপস্থিতি কবিতা উৎসবকে অনন্যতায় স্থাপতি করবে বলে মনে করি।


 লন্ডনে বাংলা কবিতা উৎসব : শীতের আকাশে তবু কবিতার তুলো ওড়ে


 ওবায়েদ আকাশ

ইস্ট লন্ডনের শহীদ আলতাফ আলী পার্কে সকাল ৯টা থেকে প্রতিদিনের পরিচিত দৃশ্যগুলো যেন নিজেকে বদলে ফেলেছে। স্থানীয় গ্রীষ্মের শেষদিকে কিছুটা শীতের তীব্রতায় প্রাত্যহিক দৃশ্যগুলো যেন চুপটি মেরে আছে আশেপাশের অন্য কোথাও। এক নতুন দৃশ্যের উচ্ছ্বাসে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে ছুটির দিনের উৎসুক লন্ডনবাসী যে যার মতো দাঁড়িয়ে পড়েছে আলতাফ আলী পার্কের নতুন দৃশ্যশোভার চারিদিকে। এ দৃশ্য আজ কবিতাপ্রেমীদের কোলাহলে। একে একে কবিতার নামে নানা সস্নোগান অঙ্কিত ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ছুটে আসছে কবিতাপাগল অগণিত মুখ। শিশু থেকে বৃদ্ধ কে না ভালোবাসে কবিতা! প্রত্যেকের দৃষ্টি ফুঁড়ে যেন বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন কবিতার সব ধারালো পঙ্ক্তি। সব কিছু ছাপিয়ে এখান থেকেই কবিতার শোভাযাত্রা শুরু করবে ‘বাংলা কবিতা উৎসব ২০১২’। এই র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করতে প্রাত্যহিক সীমাহীন ব্যস্ততাকে উপেক্ষা করে ‘সংহতি সাহিত্য পরিষদ’-এর সদস্যদের আগ্রহ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছিল_ দীর্ঘ একবছর বিরতির পর আজ আবার কবিতা উৎসব। দৃষ্টি আকর্ষণীয় তাদের নানা আয়োজন। অবাক বিস্ময়ে তাকানোর মতো আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রতি ‘সংহতি’র আচরণ ও অতিথিদের অংশগ্রহণ। এর সঙ্গে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় ও বাংলা সংবাদপত্র-টেলিভিশনের অগণিত মিডিয়াকর্মী ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যবৃন্দ। কবিতা পড়ার যে পাঠক নেই, কবিতা শোনার যে শ্রোতা নেই_ এই দৃশ্য যেন সেই ঘুণে ধরা ধারণাকে উপহাস করে চলেছে।
সকাল ১০টায় শুরু হলো দিনব্যাপী কবিতা উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজন সকালবেলার র‌্যালি। গন্তব্য উৎসবস্থল ব্রাডি আর্ট সেন্টার। র‌্যালিতে অংশ নিয়েছেন সংহতি সাহিত্য পরিষদের অগণিত সদস্যসহ তাদের ও আমাদের সংস্কৃতিকর্মীদের অভিভাবক কবি ও বিশিষ্ট লেখক-কলামিস্ট আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। বর্তমান বৃটেনের অন্যতম শক্তিমান ও জনপ্রিয় কবি স্টিফেন ওয়াটস, টাওয়ার হ্যামলেটের মেয়র, বাংলাদেশ দূতাবাসের হাইকমিশনার ছাড়াও আরো স্থানীয় গণ্যমান্য নারী-পুরুষ। আর এসময়ের বাংলা ভাষার শক্তিমান ও জনপ্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুণসহ বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে যাওয়া আমরা কয়েকজন_ কবি মারুফ রায়হান, আমি ও কানাডা প্রবাসী কবি মাসুদ খানের অংশগ্রহণে এ র‌্যালি যেন আরো বেশি বেগবান হয়ে ছুটে চলে গন্তব্যের দিকে। র‌্যালিতে অংশ নিয়েছিলেন আমন্ত্রিত অতিথি জার্মান প্রবাসী কবি নাজমুন নেসা পিয়ারী। প্যারিস এবং ইতালি থেকেও এসেছিলেন অনেক কবিতাপ্রেমী।
ইস্ট লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টার আজ কবিতার জন্য নিবেদন করেছে নিজেকে। যেন সে নিজেকে বারবার বুঝিয়ে দিচ্ছে_ আজ সারাদিন কবিতার দিন। কবিদের বরণ করার জন্যই সে নিজেকে রাঙিয়ে নিয়েছে রঙিন সাজে। একদিকে মূল মঞ্চ, একদিনে কবিদের বই বিক্রির মেলা আর একদিকে কবি ও দর্শনার্থীদের জন্য আপ্যায়নের সু ব্যবস্থায় ঘরটির প্রতিটি দৃশ্যই যেন কবিতাময় হয়ে উঠেছে।
অনুষ্ঠান শুরু হলো স্থানীয় সময় সকাল এগারোটায়। ‘তুমি সুন্দর তুমি সত্যের, তুমি সাম্যের / কবিতা তুমি আর এক নাম জীবনের’ কবি ইকবাল হোসেন বুলবুলের কথায় এই সমবেত উদ্বোধনী সঙ্গীত দিয়ে শুরু করা হয় দিনব্যাপী বাংলা কবিতা উৎসবের। তারপর আয়োজক ও অতিথিদের সংক্ষিপ্ত ভাষণ শেষে কবিতা চলচ্চিত্র নাচে গানে জমে ওঠে এই কবিতার দিন। সংগঠনের বর্তমান সভাপতি কবি ইকবাল হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক কবি শামসুল হক এহিয়া, ট্রেজারার হেলাল উদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি ফারুক আহমেদ রনি ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের সংহতির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও আগামী দিনের কবিতা উৎসবকে ঘিরে তাদের স্বপ্নের কথা শোনান। সংহতির অন্যতম স্বজন কবি শামীম আজাদ উৎসব ও সংগঠনের নানা দিক নিয়ে নিজের ভাললাগার কথা জানান।
অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছিলেন অগণিত কবি ও শুভানুধ্যায়ীগণ। বার্মিংহাম থেকে কবি মুজিব ইরম, কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো বিভিন্ন সিটি থেকে দলে দলে কবিতাপ্রেমীরা দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে থাকেন। কয়েকটি পর্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমবেতদের অংশগ্রহণে দর্শক পর্বে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা অবধি দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা কোনো কবিতার প্রোগ্রামে দর্শক ধরে রাখার কাজটি মোটেই সহজ কোনো ব্যাপার নয়। এই দিনে যে কাজটি অনায়াসেই করতে পেরেছে ‘সংহতি’। দর্শক সারিতে সারাদিন এক মুহূর্তের জন্যও কোনো তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। অগণিত দর্শককে দেখেছি অডিটোরিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কবিতা শুনতে। ব্রিটিশ জনপ্রিয় কবি স্টিফেন ওয়াটস বাংলাদেশের অধিকার বঞ্চিত নারীদের নিয়ে লেখা কবিতা পাঠ করে অনুষ্ঠানে এক অন্যরকম আবহ তৈরি করেন। বাংলাদেশ, কানাডা, জার্মানি, প্যারিস ও ইতালি থেকে আমন্ত্রিত অতিথি কবি ও লন্ডন প্রবাসী বাঙালি কবিদের নানা স্বাদের কবিতাপাঠ, ভাষণ-সম্ভাষণে দিনমান যেন এক অনন্য কবিতাময় হয়ে উঠেছিল তৃতীয় বাংলা তথা ইস্ট লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টার। এছাড়াও ছিল নির্বাচিত কবিদের কবিতা থেকে আবৃত্তি। কবিতা আবৃত্তি করে শোনান রেজোয়ান মারুফ, মুনিরা পারভীন ও সালাহউদ্দীন শাহীন। অন্যদের মধ্যে আরো যারা কবিতা পাঠ করেন তারা হলেন_ কাদের মাহমুদ, শামীম আজাদ, মাশুক ইবনে আনিস, মুজিব ইরম, দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু, মিলটন রহমান, মঞ্জুলিকা জামালী, অলি রহমান, কাজল রশীদ, নিতুপূর্ণা, শামীম শাহান, ওয়ালী মাহমুদ, শাহনাজ সুলতানা, খাতুনে জান্নাত, আনোয়ারুল ইসলাম অভি, শামসুল হক, আতাউর রহমান মিলাদ, মাজেদ বিশ্বাস, আহমদ ময়েজ, তুহিন চৌধুরী, মতিউর রহমান সাগর প্রমুখ।
এবারের কবিতা উৎসবে সংহতি মরণোত্তর পদকে সম্মানিত করা হয় কবি ও শিশুতোষ লেখক ডা. কুদরত উল ইসলামকে। বাংলা সাহিত্যে সার্বিক অবদানের জন্য কবি, কথাশিল্পী ও নাট্যকার ডা. মাসুদ আহমেদকে প্রদান করা হয় আজীবন সম্মাননা পদক। বাংলা কবিতায় অবদানের জন্য কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু ও বিলেতে বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য কবি ও ছাড়াকার দিলু নাসেরকে সংহতি সাহিত্য পদকে সম্মানিত করা হয়। এছাড়া আমন্ত্রিত কবিদেরকে গুণীজন ও বিশেষ সম্মাননা পদকে ভূষিত করা হয়। কবি আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ও কবি নির্মলেন্দু গুণ প্রত্যেকের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন।
সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে এবারের কবিতা উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছিল সদ্য প্রয়াত জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে। আবু তাহেরের নির্মাণে হুমায়ূন আহমেদের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত ডকু সিনেমাও প্রদর্শন করা হয়।
আয়োজক সংগঠন ‘সংহতি সাহিত্য পরিষদ’ দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে তাদের নানামাত্রিক সাংস্কৃতিক কর্মকা- পরিচালনা করলেও এরকম নিরেট কবিতা উৎসবের আয়োজন করছে গত ৫ বছর ধরে। এ উৎসবে ইতোপূর্বে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বনামখ্যাত কবি বেলাল চৌধুরী, রফিক আজাদ, মহাদেব সাহা, আসাদ চৌধুরী, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, মুস্তাফিজ শফিসহ আরো অনেকে। এছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসী বাঙালি কবিরা প্রতিবছরই এ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তৃতীয় বাংলার এই কবিতা উৎসবকে রাঙিয়ে যাচ্ছেন।
সংহতি শুধু উৎসব অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি তাদের কর্মকা-। কবিতা ও সাহিত্যকেন্দ্রিক কিছু প্রকাশনা ও জনকল্যাণমুখী কিছু কর্মকা-ও তারা পরিচালনা করে আসছে।
প্রতিবছরই তারা আমন্ত্রিত অতিথিদের যাতায়াত, আবাসন, আপ্যায়ন ব্যয় থেকে শুরু করে তাদেরকে ইংল্যান্ডের দর্শনীয় স্থানগুলো সাধ্যানুযায়ী পরিদর্শন করিয়ে থাকে। এবারও তার কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। ২৮ আগস্ট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে রাত ৯ টায় যাত্রা শুরু করে আমরা লন্ডনের হিথ্রো বিমান বন্দরে পেঁৗছাই ২৯ আগস্ট ভোর সোয়া ছয়টায়। হিথ্রোতে নেমেই সংগঠনের সদস্যদের কুশলী ও দক্ষ পরিচালনা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি। বিমানবন্দর থেকেই তারা আমাদের দেখভালের যাবতীয় দায়িত্ব বুঝে নেন। ট্রেজারার হেলাল উদ্দিনের তত্ত্ববধানে আমাদের আবাসনের ব্যবস্থা করেন ৬৫, পোর্টট্রি স্ট্রিট, পপলারের এক চমৎকার ফ্ল্যাটে। কবি নির্মলেন্দু গুণ ও আমার জন্য একটি পরিপাটি কক্ষ এবং কবি মাসুদ খান ও মারুফ রায়হানের জন্য আর এক মনোরম কক্ষে শুরু হয় কবিতার জন্য আমাদের লন্ডনে বসবাস। ফ্ল্যাটে ওঠার পর থেকেই সংহতিকেন্দ্রিক অসংখ্য কবি ও কবিতাপ্রেমী আমাদেরকে উদ্দেশ করে চলে আসেন আমাদের ফ্ল্যাটে, জমিয়ে তোলেন কবিতার আড্ডা। শাহেদ চৌধুরী, তুহিন চৌধুরী দম্পতির আপ্যায়নের ধরনে সত্যিই মনটা বিগলিত হয়ে যায়। কবিতা পাঠ করেন কখনো কবি নির্মলেন্দু গুণ, কখনো মাসুদ খান, কখনো মারুফ রায়হান, কখনো আমি_ আর মুজিব, বুলবুলসহ ওখানকার কবিরা তো আছেনই। এই করতে করতে খুব নিকটে এসে যায় ২ সেপ্টেম্বর সেই কাঙ্ক্ষিত দিন, সারাদিন কবিতার দিন। লন্ডনের বাংলা কবিতা উৎসব ২০১২।
তবে এই কবিতা উৎসবের বাইরে শুধুই কি ফ্ল্যাটে বসে দিনগণনা? কখনো বুলবুল, কখনো এহিয়া, কখনো হেলাল, কখনো তাহের, কখনো সেলিম, কখনো শাহেদ, কখনো শাহান আমাদেরকে তুলে নিয়ে গেছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনে। কবি নির্মলেন্দু গুণের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ও আগ্রহে উৎসবের পরদিনই রেজোয়ান মারুফের নেতৃত্বে কবি শাহ আলমের গাড়িতে আমরা দেখে এলাম ক্যানসাল গ্রীনের এক সিমেট্রিতে রবীন্দ্রনাথের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সমাধি। ৩১ আগস্ট সেলিমউদ্দিন ও তুহিন চৌধুরী আমাদের নিয়ে গেলেন সেই স্বপ্নের টেমস্ নদীর পারে। টেমসের জল এই প্রথম দেখতে পেরে আবেগে ভিজে এল চোখ। দেখলাম টাওয়ার ব্রিজ, লন্ডন টাওয়ারসহ টেমসের চারপাশের নানান স্থপনা। আর ফাঁকে ফাঁকে চলল স্থানীয় টিভি ও সংবাদপত্রগুলোতে আড্ডা ও কবিতাপাঠ।
আবু তাহের আমাদের নিয়ে গেলেন কেন্টের এক ফলের বাগানে। যেখানে নিয়ম করাই আছে_ বিনামূল্যে ইচ্ছা মতো বাগানের ফল খেতে পারার। অপার উৎসাহে মেমে পড়লাম ফ্রুট পিকিংয়ের কাজে। ঢুকেই চোখে পড়ল পেয়ার গাছে ঝুলে আছে থোকা থোকা অচেনা পেয়ার। ছিঁড়ে খেতেই বুঝতে পারলাম কী সুস্বাদু এই ফল। গাছ থেকে ছিঁড়ে খেলাম, স্ট্রবেরি, রাজবেরি, আপেল, প্লাম্পের মতো নানা জাতের সুমিষ্ট ফল। তাই দুপুরে আর ওই দিনের লাঞ্চ করার উপায় ছিল না।
২ তারিখ উসবের পর থেকেই শুরু হলো আমাদের অন্য আরেক জীবন। কয়েক দিন ঘুরে ঘুরে বন্ধনহীন দেখে নিলাম লন্ডনের কখনো মেঘলা কখনো উজ্জ্বল আর রাতের আলো ঝলমলে দৃশ্যকে। ফাঁকে ফাঁকে চলতে থাকলো বিভিন্ন বাড়িতে নিমন্ত্রণ আর কবিতা পাঠের আড্ডা। ৯ সেপ্টেম্বর আমরা সবাই স্টার্টফোর্ট অন এভন, শেক্সপিয়ারের বাড়িতে যেন শেক্সপিয়ারের নিমন্ত্রণে বেড়াতে এলাম। কী মনোরম এক বাড়িতে বাস করতেন শেক্সপিয়ার! আর তার চারপাশের দৃশ্য আরো কী যে অভাবনীয় সুন্দর! পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এভন নদীটি যেন এই বিখ্যাত কবি-নাট্যকারের মনের মতো করেই সৃষ্টিকর্তা এখানে শায়িত রেখেছেন।
বার্মিংহামের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখান কবি মুজিব ইরম, দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু, চলচ্চিত্র নির্মাতা মকবুল চৌধুরী ও নাট্যকর্মী তারেক চৌধুরী। সুইনডন, অক্সফোর্ড, স্টোনহেঞ্জ, সেইলসবারি, বর্নমথে
ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কোনো দিন মন থেকে মুছে যাবার নয়। এসব অভাবনীয় সুন্দর দর্শনীয় জায়গাগুলো আমাদেরকে ঘুরিয়ে দেখান কথাশিল্পী কামাল রাহমান, ডা. রাফি আহমেদ ও বিজু। ক্যামব্রিজ, ব্রিটিশ লাইব্রেরি, ব্রিটিশ মিউজিয়াম, মিলেনিয়াম ডোম, বাকিংহাম প্যালেসের মতো আরো অসংখ্য দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখান ইকবাল বুলবুল, এহিয়া, নিতু, কাজল, ওয়ালীসহ একঝাঁক তরুণ কবিতাকর্মী।
একটি বিষয় খুব স্পষ্ট মর্মে গেঁথে গেল যে, এখন আর ইংল্যান্ডের প্রবাসী বাঙালিরা তাদের নিজেদেরকে ‘ডায়াস্পরা’ বা ‘অনাবাসী’ বলতে মোটেই রাজি নন। এ ধারণাকে তারা তাদের পূর্বপুরুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান। পূর্বপুরুষেরা আজকের এই ভূমিটি তৈরি করে দিয়েছেন। তাদের বৃটিশবাঙালি সন্তানেরা নিজেদেরকে কখনো ডায়াস্পরা বলে মেনে নেবে না। এখন আর তারা বিক্ষিপ্ত নয়। এখন আর কোনোভাবেই তাদের আলাদা ভাববার অবকাশ নেই। তারা মনে করেন তাদের ভাষা সাহিত্য এখন বৃটিশ মূল ধারারই অংশ। তারা এখন বৃটেনে তাদের অবস্থানকে ‘তৃতীয় বাংলা’ বলে স্বীকার করছে। এই তৃতীয় বাংলাকে তারা বাংলা কবিতার চারণভূমি বলতেও দ্বিধা করছে না। সমগ্র বৃটেনে দীর্ঘকালের বাংলা কবিতা চর্চা এবং দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক কর্মকা- তাদের এ দাবিকে অনেক বেশি যুক্তিপূর্ণ করে তুলেছে।
জীবিকা নির্বাহের সীমাহীন ব্যস্ততা, প্রতিকূল আবহাওয়া ও নাগরিক নির্মমতাকে উপেক্ষা করে ইংল্যান্ডের আকাশে বাতাসে যে কবিতার তুলো উড়তে দেখেছি, তাতে একজন বাংলা কবিতাকর্মী হিসেবে নিজেকে অনেক বেশি ভাগ্যবান মনে করেছি। বাংলা কবিতা উৎসবকে ঘিরে দীর্ঘ ২৪ দিনের বিলেত ভ্রমণ শেষে উইলিয়াম শেক্সপিয়ার, ম্যাথু আর্নল্ড, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, জন মিল্টন, স্যামুয়েল কোলরিজ, জন ডান, হ্যারল্ড পিন্টার প্রমুখ মহান কবিদের দেশ থেকে আরো বেশি আশাবাদী হয়ে দেশে ফিরেছি। কবিতার জয় অনিবার্য।

Advertisements

About shanghati

সংহতি আজ ২৫ বছরের যুবা। আজ থেকে ২৫ বছর আগে তৃতীয়বাংলায় কিছু তরুণ কবি ও সাহিত্যকর্মিদের প্রচেষ্টায় সংহতি সাহিত্য পরিষদের জন্ম হয়। জন্মলগ্ন থেকে সংহতি তার আদর্শ এবং কর্ম তৎপরতার মাধ্যমে একটি নিরেট সাহিত্য সংগঠনে পরিণত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের সব ক’টি ক্ষেত্রেই সংহতি সমান অবদান রেখে আসছে। সংহতি শুরুতে যুক্তরাজ্য থেকে সর্বপ্রথম মাসিক সাহিত্যের কাগজ প্রকাশনার মধ্যদিয়ে তার যাত্রা শুরু করে। তারপর ধাপে ধাপে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংযোজন করছে ভিন্ন মাত্রা। ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাহিরে সর্বপ্রথম কবিতা উৎসব ও বহির্বিশ্বের বাংলাভাষার কবি সাহিত্যিকদের মূল্যায়নের লক্ষ্যে সাহিত্য পুরষ্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সংহতি কবিতা উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে অংশগ্রহণ করছেন কবি ও সাহিত্যিকরা।
This entry was posted in সাম্প্রতিক. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s